অপি করিম: অভিনয়, নাচ ও স্থাপত্যে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করা এক শিল্পীর গল্প
বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এমন কিছু শিল্পী আছেন, যাদের পরিচয় শুধু অভিনেত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। অপি করিম তেমনই একজন। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং, নৃত্য, উপস্থাপনা, স্থাপত্য ও শিক্ষকতায়ও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে শোবিজে যাত্রা শুরু করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী।
তবে অপি করিমের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি হলো—তিনি কখনো অতিরিক্ত কাজের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেননি। বরং বেছে বেছে নাটক, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ফলে তাঁর অভিনীত অনেক কাজের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু দর্শকের মনে সেগুলোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী।
অপি করিমের জন্ম ও শিক্ষাজীবন
অপি করিমের আসল নাম সৈয়দা তুহিন আরা অপি করিম। ১৯৭৯ সালের ১ মে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিএএফ শাহীন কলেজে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েট থেকে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। বুয়েটে পড়ার সময়ও তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে পড়াশোনাকে কখনো অবহেলা করেননি। পরবর্তীতে স্থাপত্যের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এই জায়গাটিই অপি করিমকে অন্য অনেক অভিনয়শিল্পীর চেয়ে আলাদা করে। কারণ, অভিনয় তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও সেটিই তাঁর একমাত্র পরিচয় নয়।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয়
অপি করিমের অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয় আসলে বেশ ছোট বয়সেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র আড়াই বছর বয়সে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘সকাল সন্ধ্যা’ নাটকে পারুলি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। যদিও সেই সময়ের স্মৃতি তাঁর নিজের খুব একটা মনে নেই, পরবর্তীতে অনেক দর্শক তাঁকে সেই চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
তবে শৈশবের সেই অভিজ্ঞতার পর তিনি সরাসরি অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেননি। বরং পড়াশোনা, নাচ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে বড় হয়ে আবার অভিনয়ের জগতে ফিরে আসেন।
লাক্স প্রতিযোগিতা দিয়ে নতুন পরিচয়
১৯৯৯ সালে লাক্স ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় ‘মিস ফটোজেনিক’ খেতাব অর্জন করেন অপি করিম। এরপর লাক্সের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
সেই সময়ের বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশন পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের সহজেই আকৃষ্ট করেছিল। ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনের গণ্ডি পেরিয়ে নাটক ও টেলিফিল্মেও নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে ২০০০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে যে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীরা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন, অপি করিম তাঁদের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
নাটকে জনপ্রিয়তা
টেলিভিশন নাটকে অপি করিমের অভিনয় ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘ছায়াফেরী’, ‘থতমত এই শহরে’, ‘কেমন আছো?’, ‘ভূতের ভয়’, ‘হঠাৎ প্রিয়তমা’, ‘শুকতারা’, ‘আপনজন’, ‘সবুজ গ্রাম’, ‘তিথির সুখ’, ‘ছায়া চোখ’, ‘জলছাপ’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
তাঁর অভিনয়ের মধ্যে ছিল স্বাভাবিকতা। চরিত্রকে অতিরিক্ত নাটকীয় করে তোলার পরিবর্তে সহজভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দর্শকদের কাছে তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল।
অপি করিম নিজেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। ভালো গল্প না পেলে নিয়মিত টেলিভিশন নাটকে কাজ করার আগ্রহ তাঁর ছিল না। কারণ, তাঁর কাছে অভিনয় শুধু নিয়মিত কাজ করার বিষয় নয়; বরং ভালো একটি চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
মঞ্চেও সমান সক্রিয়
টেলিভিশনের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অপি করিম মঞ্চ নাটকেও কাজ করেছেন। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘রক্তকরবী’, ‘নাট্যত্রয়ী’সহ বিভিন্ন মঞ্চ প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তিনি।
মঞ্চের অভিনয়কে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। কারণ মঞ্চে অভিনয়ের সময় কোনো রিটেকের সুযোগ থাকে না। পুরো নাটকটি ভালোভাবে প্রস্তুত করে দর্শকের সামনে একবারেই উপস্থাপন করতে হয়।
এক সাক্ষাৎকারে অপি করিম মঞ্চ অভিনয়কে সবচেয়ে কঠিন বলে উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে নিজের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়ও মনে করেন। কারণ নাটক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
নাচের প্রতিও বিশেষ আগ্রহ
অপি করিম শুধু অভিনয়েই দক্ষ নন, নাচের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নৃত্যচর্চা করেছেন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর নাচের স্বীকৃতি রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনয়, নাচ ও মঞ্চ—এই তিনটি ক্ষেত্রই তাঁর শিল্পীসত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে পর্দায় তাঁর অভিনয়ের মধ্যেও নৃত্য ও মঞ্চের প্রশিক্ষণের প্রভাব অনেক সময় চোখে পড়ে।
‘ব্যাচেলর’ দিয়ে চলচ্চিত্রে বড় পরিচয়
অপি করিমের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে প্রশংসিত হয়।
‘ব্যাচেলর’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন অপি করিম। চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি তাঁর অবস্থানকে আরও শক্ত করে।
একটি সিনেমায় অভিনয় করেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
কেন চলচ্চিত্রে এত কম কাজ করেছেন?
‘ব্যাচেলর’-এর পর দীর্ঘ সময় বড় পর্দায় দেখা যায়নি অপি করিমকে। এর পেছনে ছিল তাঁর নিজের পছন্দ, পড়াশোনা, শিক্ষকতা এবং অন্যান্য ব্যস্ততা।
তিনি জানিয়েছেন, ‘ব্যাচেলর’-এর পর অনেক ধরনের সিনেমার প্রস্তাব পেলেও সব গল্প তাঁর পছন্দ হয়নি। পাশাপাশি চাকরি ও পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণেও অনেক কাজের সঙ্গে সময় মেলেনি।
অর্থাৎ নিয়মিত পর্দায় না থাকার অর্থ অভিনয় ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং নিজের সময় এবং পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
‘মায়ার জঞ্জাল’-এ ভিন্ন ধরনের অপি করিম
দীর্ঘ বিরতির পর অপি করিম আবার বড় পর্দায় ফেরেন ‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমার মাধ্যমে। ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী পরিচালিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমাটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত।
সিনেমাটিতে অপি করিম অভিনয় করেন সোমা চরিত্রে। তাঁর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেন কলকাতার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। সোমার জীবনের পারিবারিক ও আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে চরিত্রটি এগিয়ে যায়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অপি করিমের পছন্দের লেখকদের একজন। তাই তাঁর গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয় করাটা অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। চরিত্রটি সহজ ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
‘উৎসব’ দিয়ে আবার বড় পর্দায়
২০২৫ সালে তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ সিনেমায় অভিনয় করে আবারও দর্শকের সামনে ফিরে আসেন অপি করিম। সিনেমাটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, সাদিয়া আয়মানসহ আরও অনেকে।
অপি করিমের জন্য ‘উৎসব’ ছিল বিশেষ একটি কাজ। কারণ দীর্ঘ সময় নিয়মিত অভিনয়ে না থেকেও একটি ভালো গল্প ও শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁকে আবার পর্দায় নিয়ে আসে।
তিনি জানিয়েছেন, পরিচালক তানিম নূর গল্প নিয়ে তাঁর কাছে আসার পর গল্প শুনেই কাজটিতে রাজি হয়েছিলেন। ভালো গল্পের জন্য অপেক্ষা করার যে বিষয়টি তিনি আগে বলেছিলেন, ‘উৎসব’ তারই একটি উদাহরণ।
‘মায়ার জঞ্জাল’ আবার দর্শকের ঘরে
অপি করিমের পুরোনো কাজও নতুন করে দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমাটি চরকি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় বাংলাদেশের দর্শকেরা ঘরে বসে আবার সিনেমাটি দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
এতে করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও অপি করিমের অভিনয় নতুন করে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকতা ও স্থাপত্য
অপি করিমের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো তিনি একজন স্থপতি ও শিক্ষক। বুয়েটে স্থাপত্য বিষয়ে পড়াশোনা করার পর স্থাপত্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি এই পেশাগত পরিচয় তাঁর জীবনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ক্যামেরার সামনে একজন পরিচিত মুখ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করাও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
উপস্থাপনা ও অন্যান্য কাজ
অপি করিম বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন। তাঁর কণ্ঠ, উপস্থাপনার ধরন এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তির কারণে এই ক্ষেত্রেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।
অভিনয়, মডেলিং, নাচ, উপস্থাপনা, মঞ্চ, স্থাপত্য ও শিক্ষকতা—এতগুলো ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করলেও তিনি নিজেকে সবকিছুর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখাতে আগ্রহী নন। বরং নিজের আগ্রহ ও সময় অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ করেছেন।
ব্যক্তিজীবন
অপি করিম ২০১৬ সালে নির্মাতা, প্রযোজক ও স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝরকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সংসার, সন্তান, শিক্ষকতা এবং অন্যান্য পেশাগত ব্যস্ততার কারণে তাঁর অভিনয়ে দীর্ঘ বিরতি এসেছে। তবে তিনি কখনোই অভিনয় পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেননি। বরং ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে আবার কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
অপি করিম কেন এখনো দর্শকের কাছে আলাদা?
অপি করিমের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট—তিনি সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেক বছর ধরে নিয়মিত নাটক বা সিনেমায় দেখা না গেলেও দর্শকের কাছে তাঁর পরিচিতি হারিয়ে যায়নি।
‘ব্যাচেলর’-এর সাথী, মঞ্চের বিভিন্ন চরিত্র কিংবা ‘মায়ার জঞ্জাল’-এর সোমা—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের অভিনয়ের আলাদা ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো নিজের জীবনে অভিনয়কে সবকিছুর ওপরে না রাখা। পড়াশোনা, স্থাপত্য, শিক্ষকতা, পরিবার ও শিল্পচর্চা—সবকিছুর মধ্যে নিজের মতো করে ভারসাম্য তৈরি করেছেন।
শেষ কথা
অপি করিম বাংলাদেশের বিনোদন জগতের এমন একজন শিল্পী, যাঁর ক্যারিয়ারকে শুধু ‘অভিনেত্রী’ শব্দ দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। মডেলিং দিয়ে পরিচিতি, টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয়তা, মঞ্চে অভিনয়, চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার, নৃত্যচর্চা, উপস্থাপনা, স্থাপত্য এবং শিক্ষকতা—সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা বেশ বৈচিত্র্যময়।
দীর্ঘ বিরতির পরও যখন তিনি পর্দায় ফিরে আসেন, তখন দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়। এর বড় কারণ তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর স্মৃতি এখনো দর্শকদের মধ্যে রয়ে গেছে।
অপি করিম নিয়মিত অভিনয় করেন না, কিন্তু ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে তাঁকে আবার পর্দায় দেখা যায়। আর এই বেছে বেছে কাজ করার কারণেই হয়তো তাঁর অভিনয়জীবনের প্রতি দর্শকের আগ্রহ এত বছর পরও অটুট।

