Inside Devashish Makhija’s World of Grit, Silence and Social Reality

Devashish Makhija portrait, Indian filmmaker and director
Devashish Makhija: অন্ধকার বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরা এক স্বতন্ত্র ভারতীয় নির্মাতা

ভারতীয় সিনেমায় এমন কিছু নির্মাতা আছেন, যারা দর্শককে শুধুমাত্র বিনোদন দিতে চান না; বরং এমন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চান, যেগুলো আমরা প্রতিদিনের জীবনে এড়িয়ে যাই। Devashish Makhija সেই ধরনেরই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর সিনেমায় সমাজের প্রান্তিক মানুষ, ক্ষমতার কাঠামো, সহিংসতা, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানুষের ভেতরের ক্ষোভ বারবার ফিরে আসে।

একজন পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি মাখিজা একজন screenwriter, writer, graphic artist এবং poet। তাঁর নির্মাণশৈলী মূলধারার বলিউডের পরিচিত বিনোদনধর্মী ধারার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব, অন্ধকার এবং সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়কেন্দ্রিক। Ajji, Bhonsle এবং Joram—এই তিনটি সিনেমাই তাঁর চলচ্চিত্র ভাবনার শক্তিশালী উদাহরণ।

কলকাতা থেকে চলচ্চিত্রের জগতে

Devashish Makhija কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের প্রথম ২৪ বছর সেখানেই কাটান। পড়াশোনা করেন Don Bosco High School-এ এবং পরবর্তীতে St. Xavier’s College থেকে Economics নিয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর বিজ্ঞাপন জগতেও কাজ করেন। McCann Erickson এবং Mudra Kolkata-তে কাজ করার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাই পাড়ি জমান।

তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা ঘটে অনুরাগ কাশ্যপের আলোচিত সিনেমা Black Friday-এর সঙ্গে। সেখানে তিনি গবেষক ও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের পথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

পরিচালক হওয়ার আগে দীর্ঘ অপেক্ষা

মাখিজার চলচ্চিত্রজীবন শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। বহু বছর ধরে তাঁর একের পর এক সিনেমার পরিকল্পনা তৈরি হলেও সেগুলো নির্মাণের সুযোগ পাননি। নিজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনেকগুলো feature film আটকে থাকার পর তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। সেই সময়ের কয়েকটি short film তাঁকে নতুন করে পরিচিতি এনে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই পথ থেকেই Ajji, Bhonsle এবং পরে Joram নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়।

এই সময় তাঁর Taandav, Agli Baar, El’ayichi, Absent, Rahim Murge Pe Mat Ro এবং আরও কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভিন্ন জায়গায় প্রশংসা ও পুরস্কার অর্জন করে। তাঁর অফিসিয়াল ফিল্মোগ্রাফিতেও এসব কাজের উল্লেখ রয়েছে।

Ajji: প্রতিশোধের গল্পের আড়ালে অন্য এক ভারত

২০১৭ সালের Ajji ছিল Devashish Makhija-র feature filmmaker হিসেবে বড় পরিচয়ের অন্যতম কারণ। সিনেমাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক বৃদ্ধা নারী, যে তার নাতনির ওপর হওয়া ভয়াবহ অপরাধের পর নিজেই প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু Ajji শুধুই revenge thriller নয়। সিনেমাটি ক্ষমতা, সামাজিক বৈষম্য এবং বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার মতো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সাধারণ মানুষ যখন প্রচলিত ব্যবস্থার কাছে ন্যায়বিচার পায় না, তখন তার সামনে কী ধরনের পথ বাকি থাকে—সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নই সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করে।

সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয় এবং Beaune International Thriller Film Festival-এ Fresh Blood Best Film পুরস্কার অর্জন করে।

Bhonsle: একজন নীরব মানুষের লড়াই

এরপর আসে ২০১৮ সালের Bhonsle। Manoj Bajpayee অভিনীত এই সিনেমায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে মুম্বাইয়ের অভিবাসী-বিরোধী উত্তেজনা ও সামাজিক বিভাজনের গল্প বলা হয়েছে।

এখানেও মাখিজা কোনো সহজ উত্তর দেননি। বরং একজন নীরব, ক্লান্ত মানুষ কীভাবে চারপাশের অন্যায় ও সহিংসতার মধ্যে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান খুঁজে নেয়, সেটিই সিনেমার মূল আকর্ষণ।

Bhonsle আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে মাখিজার অবস্থান আরও শক্ত করে। সিনেমাটির জন্য তিনি Asian Film Festival of Barcelona-তে Best DirectorBest Screenplay পুরস্কার অর্জন করেন। সিনেমাটি Asia Pacific Screen Awards-এও সম্মান পায়।

Joram: তাঁর নির্মাণশৈলীর সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণগুলোর একটি

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া Joram Devashish Makhija-র ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত কাজ। সিনেমাটিতে Manoj Bajpayee অভিনীত এক আদিবাসী শ্রমিককে দেখা যায়, যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে নিজের শিশুকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়।

সিনেমাটি শুধুমাত্র একজন মানুষের পালিয়ে বাঁচার গল্প নয়। এর মাধ্যমে উন্নয়ন, বাস্তুচ্যুতি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ক্ষমতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন সামনে আসে। মাখিজা নিজেও বলেছেন, তাঁর গল্পের কেন্দ্রে থাকা সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকেই অনেক সময় সিনেমার যাত্রা শুরু হয়।

Joram আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে প্রশংসা পায় এবং ২০২৪ সালের Filmfare Awards-এ Best Film (Critics)Best Story—দুটি পুরস্কার অর্জন করে।

মাখিজার সিনেমা কেন আলাদা?

Devashish Makhija-র সিনেমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি দর্শককে স্বস্তি দেওয়ার চেয়ে অস্বস্তিতে ফেলতে বেশি আগ্রহী।

তাঁর গল্পে সাধারণত এমন চরিত্র দেখা যায়, যারা সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। শ্রমিক, অভিবাসী, প্রান্তিক মানুষ কিংবা এমন ব্যক্তিরা, যাদের সমস্যাগুলো বড় শহরের চাকচিক্যের আড়ালে সহজেই হারিয়ে যায়।

তবে তাঁর সিনেমাকে শুধু “social cinema” বললে হয়তো পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। তাঁর নির্মাণে thriller, crime, drama এবং psychological tension-এর মতো উপাদানও থাকে। ফলে সামাজিক বক্তব্যের পাশাপাশি গল্পের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট টান বজায় থাকে।

তাঁর নিজের ভাষায়, গল্প বলাই তাঁর প্রতিবাদের মাধ্যম। তাই তাঁর সিনেমার রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য কখনো আলাদা বক্তৃতার মতো মনে হয় না; বরং গল্পের চরিত্র ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তা প্রকাশ পায়।

পরিচালক ছাড়াও তিনি একজন লেখক ও শিল্পী

Devashish Makhija-র পরিচয় শুধু সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বহু বই লিখেছেন এবং graphic art ও poetry নিয়েও কাজ করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে When Ali Became Bajrangbali, Why Paploo Was Perplexed, Oonga, Forgetting, Occupying Silence এবং poetry collection Bewilderness। তাঁর লেখা বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এই বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তা তাঁর সিনেমাতেও প্রভাব ফেলেছে। তাঁর গল্পে দৃশ্য, চরিত্র, শব্দ এবং নীরবতা—সবকিছুকেই তিনি গল্প বলার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন।

পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

Devashish Makhija-র সিনেমা শুধু ভারতীয় দর্শকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর কাজ Rotterdam, Busan, Sydney, Chicago, Göteborg, Beaune, Glasgow, Edinburgh, Durban, Barcelona এবং আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রতিযোগিতা করেছে।

বিশেষ করে Ajji, Bhonsle এবং Joram তাঁকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শেষ কথা

Devashish Makhija এমন একজন পরিচালক, যার সিনেমা শেষ হওয়ার পরও গল্পটি সহজে মাথা থেকে বেরিয়ে যায় না। কারণ তিনি শুধু “কী ঘটল” সেটা দেখান না—বরং কেন ঘটল, কারা এর জন্য দায়ী এবং আমরা নিজেরা এই ব্যবস্থার কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সেই প্রশ্নও ছুড়ে দেন।

Ajji-এর প্রতিশোধ, Bhonsle-এর সামাজিক বিভাজন কিংবা Joram-এর বাস্তুচ্যুতি—প্রতিটি গল্পের ভেতরেই রয়েছে বৃহত্তর সমাজের একটি অস্বস্তিকর ছবি।

মূলধারার চেনা পথের বাইরে গিয়ে যারা একটু অন্য ধরনের ভারতীয় সিনেমা দেখতে চান, তাদের জন্য Devashish Makhija-র চলচ্চিত্রজগৎ নিঃসন্দেহে অনুসন্ধান করার মতো একটি জায়গা। তাঁর সিনেমা হয়তো সবসময় আরামদায়ক নয়, কিন্তু সেগুলো দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—আর একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ