Taapsee Pannu: দক্ষিণের সিনেমা থেকে বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী হয়ে ওঠার গল্প
ভারতীয় সিনেমায় এমন কিছু অভিনেত্রী আছেন, যাদের পরিচয় শুধুমাত্র জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে দেওয়া যায় না। কারণ তাঁরা এমন সব চরিত্র বেছে নেন, যেগুলো একই সঙ্গে কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ এবং দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলার মতো। Taapsee Pannu তাঁদেরই একজন।
গত এক দশকেরও বেশি সময়ে তাপসী পন্নু নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি প্রচলিত নায়িকার সংজ্ঞার মধ্যে আটকে থাকতে চান না। কখনো তাঁকে দেখা গেছে একজন নির্ভীক তরুণীর চরিত্রে, কখনো অ্যাথলেট, কখনো গৃহবধূ, কখনো প্রতিশোধপরায়ণ নারী, আবার কখনো এমন এক চরিত্রে, যার চারপাশের সমাজই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।
Pink, Mulk, Manmarziyaan, Badla, Saand Ki Aankh, Thappad, Rashmi Rocket, Looop Lapeta, Haseen Dillruba এবং Dunki—তাঁর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, একই ধরনের চরিত্রে নিজেকে আটকে না রেখে কতটা বৈচিত্র্যময় কাজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
Taapsee Pannu কে?
Taapsee Pannu ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী একজন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। তিনি মূলত হিন্দি, তেলুগু ও তামিল ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন। তাঁর জন্ম ১ আগস্ট ১৯৮৭ সালে। অভিনয়ে আসার আগে তাঁর জীবন ছিল চলচ্চিত্রজগতের সম্পূর্ণ বাইরে। তিনি কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন এবং অভিনয়ে পূর্ণকালীন ক্যারিয়ার শুরু করার আগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
তবে মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন জগতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর ধীরে ধীরে অভিনয়ের সুযোগ আসে। শেষ পর্যন্ত সেই পথ তাঁকে নিয়ে যায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে।
ইঞ্জিনিয়ার থেকে অভিনেত্রী হওয়ার যাত্রা
Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো—অভিনয়ে আসার আগে তিনি কোনো অভিনয় পরিবারের অংশ ছিলেন না এবং তাঁর শিক্ষাজীবনের পথও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পর তিনি মডেলিংয়ে প্রবেশ করেন। এরপর বিজ্ঞাপনের কাজ এবং বিভিন্ন মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে বিনোদন জগতে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে।
২০১০ সালে তেলুগু সিনেমা Jhummandi Naadam-এর মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর তামিল ও তেলুগু সিনেমায় বেশ কয়েকটি কাজ করেন। ফলে বলিউডে প্রবেশের আগেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনি নিজের একটি জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন।
বলিউডে অভিষেক
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কাজ করার পর ২০১৩ সালে David Dhawan পরিচালিত Chashme Baddoor দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন Taapsee Pannu।
তবে এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্রবেশ করলেও প্রকৃত অর্থে দর্শকদের নজরে আসতে তাঁর খুব বেশি সময় লাগেনি।
২০১৫ সালের Baby সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের পর তাঁর অ্যাকশন ও সিরিয়াস চরিত্র করার সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের Pink তাঁর ক্যারিয়ারকে সম্পূর্ণ নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।
Pink: যে সিনেমা Taapsee Pannu-কে আলাদা করে চিনিয়েছিল
২০১৬ সালের Pink ছিল Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
Aniruddha Roy Chowdhury পরিচালিত এই আদালতকেন্দ্রিক ড্রামায় Amitabh Bachchan-এর পাশাপাশি Taapsee Pannu-কে দেখা যায় Minal Arora চরিত্রে। সিনেমাটি নারীর সম্মতি, সামাজিক বিচার, যৌন হয়রানি এবং সমাজের দ্বিমুখী মানসিকতার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল।
Taapsee-র অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি বহু পুরস্কার ও মনোনয়নও অর্জন করে।
Pink শুধু তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ায়নি; বরং এর পর থেকে Taapsee Pannu-কে এমন অভিনেত্রী হিসেবে দেখা শুরু হয়, যিনি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং নারী চরিত্র নিজের কাঁধে বহন করতে পারেন।
একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্র
Pink-এর পর Taapsee আর শুধুমাত্র প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার নায়িকা হয়ে থাকেননি। বরং তিনি এমন সব সিনেমা বেছে নিতে শুরু করেন, যেখানে তাঁর চরিত্র গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
২০১৭ সালের Naam Shabana-তে তিনি অ্যাকশন চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর Mulk-এ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি গল্পের অংশ হন।
২০১৮ সালের Manmarziyaan-এ তাঁর চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। প্রেম, সম্পর্ক, আবেগ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জটিলতার মধ্যে থাকা এক তরুণীকে তিনি পর্দায় তুলে ধরেন।
২০১৯ সালে Badla-তে আবারও তাঁকে দেখা যায় একটি রহস্যময় গল্পের কেন্দ্রে। একই বছর Saand Ki Aankh-এ তিনি ভূমি পেডনেকরের সঙ্গে একজন বয়স্ক শুটারের চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্রের জন্য তাঁর শারীরিক পরিবর্তন এবং অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
Thappad: অভিনয়ের জন্য বড় স্বীকৃতি
২০২০ সালের Thappad Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমাগুলোর একটি।
Anubhav Sinha পরিচালিত এই সিনেমায় তিনি Amrita Sabharwal চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পটি একটি সাধারণ দাম্পত্য জীবনের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি চড়কে কেন্দ্র করে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা নারী, আত্মসম্মান, সম্পর্ক এবং সামাজিক প্রত্যাশা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্ন সামনে আনে।
Taapsee-র অভিনয় এখানে ছিল অনেকটাই সংযত। চরিত্রটির আবেগ তিনি অতিরঞ্জিত না করে চোখ, শরীরী ভাষা এবং নীরবতার মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই অভিনয়ের জন্য ২০২১ সালের Filmfare Awards-এ তিনি Best Actress পুরস্কার জেতেন।
এই পুরস্কার তাঁর ক্যারিয়ারে একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকে।
Rashmi Rocket: কঠিন শারীরিক প্রস্তুতি
২০২১ সালের Rashmi Rocket-এ Taapsee Pannu-কে দেখা যায় একজন অ্যাথলেটের ভূমিকায়।
চরিত্রটির জন্য তাঁকে উল্লেখযোগ্য শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। সিনেমার গল্পে একজন নারী অ্যাথলেটকে উচ্চ testosterone মাত্রার কারণে তাঁর লিঙ্গপরিচয় ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অধিকার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এই চরিত্রের জন্য Taapsee-র শারীরিক প্রস্তুতি এবং অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তিনি Filmfare-এ Best Actress বিভাগে মনোনয়নও পান।
Looop Lapeta: অন্যরকম এক Taapsee
Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো Looop Lapeta।
এই Netflix সিনেমায় তিনি Savi চরিত্রে অভিনয় করেন। এটি ছিল একটি genre-bending thriller, যেখানে সময়ের পুনরাবৃত্তি, অপরাধ, সম্পর্ক এবং ভাগ্যের মতো বিষয়কে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
সিনেমাটি তাঁর আগের সিরিয়াস সামাজিক চরিত্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি stylised এবং unconventional ছিল। এই সিনেমার জন্য তিনি Filmfare OTT Award-এ Best Actress in a Web Original Film পুরস্কার পান।
Haseen Dillruba ও Phir Aayi Hasseen Dillruba
এরপর Taapsee Pannu-কে দেখা যায় romantic crime thriller Haseen Dillruba-তে। সিনেমাটিতে প্রেম, বিবাহ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং অপরাধের জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়।
সিনেমাটির সাফল্যের পর এর দ্বিতীয় কিস্তি Phir Aayi Hasseen Dillruba মুক্তি পায় ২০২৪ সালে। দ্বিতীয় সিনেমাতেও Taapsee একই ফ্র্যাঞ্চাইজির কেন্দ্রে ছিলেন।
এই দুই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেন যে একই অভিনেত্রী একই সময়ে drama, romance এবং thriller—তিন ধরনের ভিন্ন tonal space-এ কাজ করতে পারেন।
Dunki: Shah Rukh Khan-এর সঙ্গে কাজ
২০২৩ সালে Taapsee Pannu-কে দেখা যায় Shah Rukh Khan অভিনীত Dunki সিনেমায়।
Rajkumar Hirani পরিচালিত এই সিনেমায় তিনি Manu চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পের কেন্দ্রে ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, অভিবাসনের আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের দেশে ফিরে আসার আবেগ।
এই সিনেমার জন্য Taapsee Pannu Filmfare Awards-এ Best Actress বিভাগে মনোনয়ন পান। Filmfare তাঁর অভিনয়কে চরিত্রটির সাহসী ও প্রাণবন্ত উপস্থিতির জন্য উল্লেখ করেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক Taapsee
Taapsee Pannu শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেননি। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন।
নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে তিনি এমন কিছু সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যেগুলো মূলধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেছে। অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পছন্দের গল্পের পাশাপাশি একজন producer হিসেবেও সিনেমা তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরস্কার ও মনোনয়ন এসেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো Thappad সিনেমার জন্য ২০২১ সালের Filmfare Best Actress পুরস্কার এবং Looop Lapeta-র জন্য Filmfare OTT Award। এছাড়া Saand Ki Aankh, Rashmi Rocket, Haseen Dillruba, Dunkiসহ বিভিন্ন সিনেমার জন্যও তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও মনোনয়ন পেয়েছেন।
IMDb-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, Taapsee Pannu-র নামে ৫০টি পুরস্কার জয় এবং ৮৪টি মনোনয়ন তালিকাভুক্ত রয়েছে।
Taapsee Pannu-র অভিনয়ের বিশেষত্ব কোথায়?
Taapsee Pannu-র সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তাঁর চরিত্র নির্বাচনে।
তিনি বারবার এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলোর জন্য শুধু সৌন্দর্য বা তারকা ইমেজ যথেষ্ট নয়। চরিত্রের মানসিক অবস্থা, শারীরিক পরিবর্তন, আবেগ এবং গল্পের সামাজিক প্রেক্ষাপট—সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
এক সিনেমায় তাঁকে অ্যাকশন করতে দেখা যায়, অন্য সিনেমায় courtroom drama-তে দাঁড়াতে হয়, আবার অন্য কোথাও একজন সাধারণ গৃহবধূর নীরব কষ্ট ফুটিয়ে তুলতে হয়।
এ কারণেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিচয় “নায়িকা” থেকে অনেক বেশি “অভিনেত্রী” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৬: Gandhari-তে নতুন চ্যালেঞ্জ
Taapsee Pannu-র সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি হলো Gandhari।
Devashish Makhija পরিচালিত এই action thriller-এ Taapsee অভিনয় করেছেন Bani নামের এক মায়ের চরিত্রে। তাঁর মেয়েকে অপহরণ করার পর মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য Bani এক ভয়ংকর যাত্রায় নেমে পড়ে। কিন্তু যত এগোয়, ততই সেই অনুসন্ধান আরও অন্ধকার ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
সিনেমাটি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ OTT-তে মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তির আগে Taapsee নারী-কেন্দ্রিক action সিনেমা নিয়ে বলেও আলোচনা করেছেন—তাঁর মতে নারীকে কেন্দ্র করে তৈরি action film-এর ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে এবং সামান্য ভুলের জায়গাও রাখা হয় না।
তবে Gandhari নিয়ে সমালোচনাও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। মুক্তির দিন প্রকাশিত একটি Indian Express review সিনেমাটিকে দুর্বল ও অবিশ্বাস্য বলে সমালোচনা করেছে, যদিও সেখানে Taapsee-র শক্তিশালী অভিনয় করার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থের চেয়ে ভালো ফিল্মোগ্রাফিকে গুরুত্ব
২০২৬ সালে Gandhari নিয়ে কথা বলতে গিয়ে Taapsee Pannu নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ১০০ কোটির বক্স অফিস সাফল্যের পেছনে না ছুটে এমন সিনেমা করতে চান, যেগুলো বহু বছর পরেও তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
অর্থাৎ তাঁর কাছে শুধু একটি সিনেমা কত টাকা আয় করল সেটিই শেষ কথা নয়; বরং বহু বছর পর দর্শক কোন কাজটি মনে রাখবে, সেটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই মানসিকতাই সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।
শেষ কথা
Taapsee Pannu-র ক্যারিয়ারকে যদি এক বাক্যে ব্যাখ্যা করতে হয়, তাহলে বলা যায়—তিনি নিজের জন্য তৈরি করা প্রচলিত নায়িকার জায়গাটিকে ধীরে ধীরে ভেঙে একজন character-driven অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা থেকে সফটওয়্যার চাকরি, সেখান থেকে মডেলিং, তারপর তেলুগু সিনেমায় অভিষেক এবং শেষ পর্যন্ত বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠা—তাঁর যাত্রাটি নিঃসন্দেহে সহজ ছিল না।
Pink তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, Thappad এনে দিয়েছে বড় পুরস্কার, Rashmi Rocket দেখিয়েছে তাঁর শারীরিক প্রস্তুতি, Looop Lapeta তুলে ধরেছে তাঁর genre-bending ক্ষমতা, আর Dunki তাঁকে আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর সামনে নিয়ে গেছে।
আর Gandhari দিয়ে তিনি আবারও নিজেকে action thriller-এর কঠিন জগতে পরীক্ষা করছেন।
সব মিলিয়ে Taapsee Pannu এমন একজন অভিনেত্রী, যার ক্যারিয়ার এখনো শেষ হয়ে যাওয়ার মতো জায়গায় নয়—বরং প্রতিটি নতুন সিনেমার সঙ্গে তিনি নিজের অভিনয়ের পরিধি আরও একটু করে বাড়িয়ে চলেছেন।


0 মন্তব্যসমূহ