Kabir Ahamed and the Craft of Building Stories Through Images

Kabir Ahamed Bangladeshi director and visual storyteller
Kabir Ahamed working as a Bangladeshi filmmaker and director
কবির আহমেদ: বিজ্ঞাপন থেকে নির্মাণের বড় পর্দায়

বাংলাদেশের নির্মাণ অঙ্গনে এমন অনেক নির্মাতা রয়েছেন, যারা ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন কাজের মধ্য দিয়ে। কবির আহমেদ তাদেরই একজন। বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে শুরু করে নাটক, স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজ এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের নির্মাণভাষা গড়ে তুলেছেন। তাঁর কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত—বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে গল্পনির্ভর বিভিন্ন অডিওভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

নির্মাণজগতে যাত্রা

কবির আহমেদের নির্মাণজীবনের শুরু ২০১২ সালে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই সময়ের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজস্ব নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করতে গিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্বভাবে গল্প বলার সুযোগ পান। তাঁর পরিচালিত প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনগুলোর একটি ছিল ACI-এর Supreme Detergent-এর একটি বিজ্ঞাপন। সামাজিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি সেই বিজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বলে তাঁর IMDb প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন থেকে গল্প বলার জগতে

কবির আহমেদের কাজের পরিধি শুধু বিজ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০০টির বেশি বিজ্ঞাপন এবং ১০টির বেশি ফিকশনধর্মী কাজে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি দুটি মূলধারার চলচ্চিত্রের সঙ্গেও তাঁর কাজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন নির্মাণের পাশাপাশি তিনি ডকুমেন্টারি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও এবং গল্পনির্ভর বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হয়েছেন। তাঁর কাজের তালিকায় Banglalink, New Zealand Dairy, ACI, BRAC, Reckitt Benckiser, UNDP ও ILO-এর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

‘সন্ধি’ দিয়ে আলাদা পরিচিতি

কবির আহমেদের নির্মাণকাজের মধ্যে ২০২৫ সালের বাংলা নাটক ‘সন্ধি’ বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। নাটকটির পরিচালক ও গল্পকার হিসেবে কবির আহমেদের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

‘সন্ধি’ নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, সাফা কবির, আরেফিন জিলানী, মার্শিয়া শাওনসহ আরও অনেকে। নাটকটির গল্পে দুই অপরিচিত মানুষের সাক্ষাৎ, অতীতের কিছু অদৃশ্য ক্ষত এবং ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এক ধরনের মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশে নাটকটি প্রকাশিত হয়।

নাটকটির গল্প কবির আহমেদের এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপের কাজেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ফলে ‘সন্ধি’ শুধু তাঁর পরিচালনার কাজ নয়, একজন গল্পকার হিসেবেও তাঁর সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।

চলচ্চিত্রে কাজ

কবির আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ‘ফাতিমা’ চলচ্চিত্রে তিনি সেকেন্ড ইউনিট ডিরেক্টর/অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রটির প্রধান পরিচালক ছিলেন ধ্রুব হাসান।

এ ধরনের কাজ একজন নির্মাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কারণ বড় পরিসরের চলচ্চিত্রে কাজ করার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের শুটিং, ইউনিট পরিচালনা এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

নির্মাণের প্রতি আগ্রহ

কবির আহমেদের কাজের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টে আটকে থাকেননি। বিজ্ঞাপন, নাটক, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি ও মিউজিক ভিডিও—বিভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

তাঁর নিজের পেশাগত পরিচয়েও তিনি নিজেকে একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে তাঁর পেশাগত প্রোফাইলে ঢাকার Houseboat Productions-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়। তিনি University of Development Alternative (UODA)-এ পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে চলচ্চিত্র উৎসব, ফিল্ম ক্লাব ও ফিল্ম সোসাইটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নির্মাতা হিসেবে কবির আহমেদ

বাংলাদেশের বিনোদন ও অডিওভিজ্যুয়াল জগতে একজন নির্মাতার পথচলা সাধারণত শুধু ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। গল্প নির্বাচন, চিত্রনাট্য, অভিনয়, ভিজ্যুয়াল পরিকল্পনা এবং পুরো প্রজেক্টের আবহ—সবকিছুর সমন্বয় করেই একটি কাজ দর্শকের সামনে আসে।

কবির আহমেদের ক্যারিয়ারেও সেই বহুমুখী কাজের ছাপ দেখা যায়। সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু করে বিজ্ঞাপন নির্মাণ, এরপর নাটক ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়িয়েছেন। তাঁর পরিচালিত ‘সন্ধি’ সেই যাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

ভবিষ্যতে তিনি কোন ধরনের গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে আসেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিজ্ঞাপন ও গল্পনির্ভর নির্মাণ—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী কাজগুলোতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিঃসন্দেহে আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকবে।