Diti: Remembering One of Bangladesh’s Beloved Actresses

Parveen Sultana Diti, celebrated Bangladeshi actress
Parveen Sultana Diti during her acting career in Bangladesh
পারভীন সুলতানা দিতি: বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্মরণীয় অভিনেত্রীর জীবন ও কর্মজীবন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেত্রী রয়েছেন, যাঁদের পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের মনে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছিল। তাঁদের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছিল। পারভীন সুলতানা দিতি ছিলেন তেমনই একজন অভিনেত্রী। দর্শকদের কাছে তিনি মূলত দিতি নামেই পরিচিত ছিলেন। আশির দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের একজন হিসেবে।

দিতির অভিনয়জীবনের বিশেষত্ব ছিল চরিত্রের বৈচিত্র্য। কখনো পারিবারিক গল্পের আবেগঘন চরিত্রে, কখনো সামাজিক প্রেক্ষাপটের গল্পে, আবার কখনো অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা গেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৮৭ সালে স্বামী-স্ত্রী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি।

তবে দিতির জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়। ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন এবং শেষ জীবনে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইও তাঁর জীবনের অংশ। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ মাত্র ৫০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তাঁর নাম এখনো পরিচিত ও স্মরণীয়।

পারভীন সুলতানা দিতির জন্ম ও শৈশব

পারভীন সুলতানা দিতির জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে। শৈশব থেকেই তাঁর আগ্রহ ছিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি। অনেকেই হয়তো জানেন না, অভিনয়জগতে পরিচিতি পাওয়ার আগে তাঁর সংগীতের প্রতিও আগ্রহ ছিল। তিনি গানের চর্চা করতেন এবং সংগীতের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান পরিবেশনের সময় অভিনেতা আল মনসুরের নজরে আসেন দিতি। পরে তিনি টেলিভিশন নাটক লাইলী মজনু-তে অভিনয়ের সুযোগ পান। এভাবেই অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন নতুন দিকে এগিয়ে যায়।

দিতির শিক্ষাজীবন সম্পর্কেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন বলে জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের প্রথম অধ্যায়টি ছিল বহুমুখী অভিজ্ঞতায় গড়া।

‘নতুন মুখের সন্ধানে’ থেকে চলচ্চিত্রে যাত্রা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ ছিল একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। ১৯৮৪ সালে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে যুক্ত হন দিতি। সে সময় চলচ্চিত্রে নতুন মুখের আগমন দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করত। দিতিও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের অভিনয়জীবন শুরু করেন।

তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ডাক দিয়ে যাই। তবে ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। ফলে দর্শকেরা তাঁকে প্রথম যে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে দেখার সুযোগ পান, সেটি ছিল আমিই ওস্তাদ।

চলচ্চিত্রে প্রবেশের পর দিতিকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়েছে কাজের মধ্য দিয়েই। আশির দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন অভিনেত্রীদেরও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের প্রয়োজন ছিল। দিতি ধীরে ধীরে সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেন এবং একসময় নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতে থাকেন।

‘স্বামী-স্ত্রী’ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

দিতির অভিনয়জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো সুভাষ দত্ত পরিচালিত স্বামী-স্ত্রী চলচ্চিত্র। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হলেও এর পাশাপাশি দর্শক ও নির্মাতাদের আস্থাও সমান প্রয়োজনীয়। স্বামী-স্ত্রী ছবির মাধ্যমে দিতি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি নিজের অভিনয়ক্ষমতার পরিচয় দিতে পেরেছিলেন।

এই অর্জন তাঁর পরবর্তী কর্মজীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করার সুযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। আশির দশকের শেষভাগে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেন।

যে চলচ্চিত্রগুলো দিতিকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে

দিতির চলচ্চিত্রজীবন ছিল দীর্ঘ এবং কাজের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর অভিনীত ছবির তালিকায় পারিবারিক, সামাজিক, রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী নানা ধরনের চলচ্চিত্র রয়েছে। এ বৈচিত্র্যই তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই জীবন, হীরামতি, ভাই বন্ধু, স্নেহের প্রতিদান, শেষ উপহার, চাকর, আজকের হাঙ্গামা, পাপী শত্রু এবং হিংসার আগুন। এসব ছবির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময়ে দর্শকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে হাজির হয়েছেন।

দিতির অভিনীত চরিত্রগুলোকে এক ধরনের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ করা কঠিন। তিনি যেমন পারিবারিক গল্পে আবেগনির্ভর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তেমনি অপরাধ, প্রতিশোধ ও সংঘাতনির্ভর গল্পেও অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে তাঁর অভিনীত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা বেশ উল্লেখযোগ্য।

একজন শিল্পীর দীর্ঘ কর্মজীবনে সব কাজ সমান জনপ্রিয়তা পায় না। কিন্তু নিয়মিত কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করাটাই একজন অভিনেতার বড় অর্জন। দিতির ক্যারিয়ারে এই ধারাবাহিকতার উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।

অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দিতির উপস্থিতি

দিতিকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের কথাও বলতে হয়। নব্বইয়ের দশকে তিনি এমন কিছু ছবিতে অভিনয় করেন, যেখানে নারী চরিত্রগুলোকে শুধু পারিবারিক গল্পের অংশ হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং গল্পের সংঘাত ও প্রতিশোধের ঘটনাতেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

আজকের হাঙ্গামা, খুনের বদলা, পাপী শত্রু, লেডি ইন্সপেক্টর এবং ভাই কেন আসামি তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে। এসব চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি বাংলা বাণিজ্যিক ছবির সেই সময়ের ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নারী অভিনয়শিল্পীদের জন্য চরিত্রের পরিসর সব সময় সমান ছিল না। তবু দিতি বিভিন্ন ধরনের গল্পে কাজ করে নিজের অভিনয়জীবনকে বিস্তৃত করেছিলেন। তাঁর চলচ্চিত্র তালিকা দেখলে বোঝা যায়, তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে থাকেননি।

ছোট পর্দায়ও ছিল দিতির পরিচিতি

দিতি শুধু বড় পর্দার অভিনেত্রী ছিলেন না। টেলিভিশন নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুই হয়েছিল টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ছোট পর্দার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।

টেলিভিশনের কাজের পাশাপাশি তিনি রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনও করেছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এই দিকটি তাঁর পেশাগত পরিচয়ের আরেকটি অংশ। অভিনয় ও উপস্থাপনা—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে বিনোদনজগতের বহুমুখী একজন শিল্পী হিসেবে তুলে ধরে।

তাঁর ক্যারিয়ার থেকে বোঝা যায়, দিতি শুধু চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট একটি সময়ের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন না; টেলিভিশনেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। সে সময় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের মধ্যে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে নেওয়া অনেক শিল্পীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

দিতির ব্যক্তিগত জীবনেও নানা পরিবর্তন এসেছে। তিনি অভিনেতা সোহেল চৌধুরীকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান—মেয়ে লামিয়া চৌধুরী এবং ছেলে শাফায়েত চৌধুরী দীপ্তর জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে দিতি ও সোহেল চৌধুরীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

সোহেল চৌধুরী ১৯৯৮ সালে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে আলোচিত একটি ঘটনা ছিল। তবে দিতি ও সোহেলের দাম্পত্যজীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল এর আগেই।

পরে দিতি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করেন। সেই সংসারও স্থায়ী হয়নি এবং তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।

দিতির ব্যক্তিগত জীবনের এসব ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর জীবনকে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত পরিচিতিই তাঁর শিল্পীজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই

দিতির জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের। ২০১৫ সালে তাঁর মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একজন পরিচিত শিল্পী হিসেবে দিতির সঙ্গে দর্শকদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর অনেকেই অনুসরণ করছিলেন।

ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ২০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।

দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবনে যিনি দর্শকদের সামনে নানা চরিত্রে হাজির হয়েছেন, তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যুর খবর অনেকের কাছেই ছিল বেদনাদায়ক। তাঁর চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হারায় একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ অভিনেত্রীকে।

মৃত্যুর পরও যেসব কাজ তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে

দিতির মৃত্যুর পরও তাঁর অভিনীত কিছু চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে সুইটহার্ট এবং আইসক্রিম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তাঁর পরবর্তী সময়ের কাজের তালিকায় পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, মেঘের কোলে রোদ এবং জোনাকির আলোর মতো চলচ্চিত্র রয়েছে।

এসব কাজের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ের দর্শক তাঁকে পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা পুরোনো বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী, তাঁদের কাছে দিতির অভিনীত ছবিগুলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে তুলে ধরে।

একজন অভিনেত্রীর মূল্যায়ন শুধু তাঁর পুরস্কার বা জনপ্রিয় ছবির সংখ্যা দিয়ে হয় না। তিনি কত ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন, সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি কীভাবে বদলেছে এবং দর্শকদের স্মৃতিতে কীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। দিতির কর্মজীবন এই দিকগুলো বিবেচনা করার সুযোগ দেয়।

বাংলা চলচ্চিত্রে পারভীন সুলতানা দিতির অবদান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আশি ও নব্বইয়ের দশক ছিল বাণিজ্যিক ছবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজেদের কাজের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে স্থায়ী পরিচিতি তৈরি করেন। দিতিও তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কর্মজীবনের ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়। একই সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তাঁর অভিনয়ের স্বীকৃতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশনে কাজ করাও তাঁর পেশাগত জীবনের অংশ ছিল।

দিতির অভিনয়জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর জনপ্রিয় ছবিগুলোর পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রবেশ, ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ এবং দীর্ঘদিন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। এসব দিক মিলিয়েই তিনি বাংলাদেশের বিনোদনজগতের স্মরণীয় শিল্পীদের একজন হয়ে আছেন।

শেষ কথা

পারভীন সুলতানা দিতির জীবন ও কর্মজীবন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সংগীতের প্রতি আগ্রহ থেকে টেলিভিশনে কাজ, ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ, স্বামী-স্ত্রী ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন—সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময়।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। জীবনের শেষদিকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর অভিনীত কাজগুলো এখনো তাঁর শিল্পীজীবনের সাক্ষ্য বহন করে।

দিতিকে স্মরণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাঁর কাজগুলোকে নতুন করে দেখা এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেলেও ভালো অভিনয়ের স্মৃতি দর্শকের মনে থেকে যায়। পারভীন সুলতানা দিতির ক্ষেত্রেও কথাটি প্রযোজ্য।