অনির্বাণ ভট্টাচার্য: জীবন, অভিনয়জগতে পথচলা ও সাফল্যের গল্প
বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের পর্দায় উপস্থিতি দর্শকের মনে আলাদা করে ছাপ ফেলে। অনির্বাণ ভট্টাচার্য তাঁদেরই একজন। কখনও রহস্যময় চরিত্রে, কখনও নেতিবাচক ভূমিকায়, আবার কখনও হাস্যরসাত্মক অভিনয়ে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁর পরিচয় শুধু চলচ্চিত্রের অভিনেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, গান এবং চলচ্চিত্র পরিচালনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে তিনি বাংলা বিনোদনজগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
অনির্বাণের অভিনয়ের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি চরিত্রের বাহ্যিক রূপের চেয়ে তার মনস্তত্ত্ব ও আচরণকে গুরুত্ব দেন। ফলে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো অনেক সময় দর্শকের কাছে একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এই ভিন্নধর্মী অভিনয়শৈলীই তাঁকে সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখগুলোর একজন করে তুলেছে।
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের জন্ম ও শৈশব
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৮৬ সালের ৭ অক্টোবর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। ছোট শহরে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবন ও শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তী সময়ে কলকাতায় এসে তিনি অভিনয় ও থিয়েটারকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যান।
অনেক অভিনেতা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পরিচিতি অর্জন করেন। অনির্বাণের পথচলা ছিল কিছুটা আলাদা। তিনি অভিনয়কে শুধু জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং এর পেছনে থাকা প্রশিক্ষণ, অনুশীলন এবং চরিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়ার প্রতিও আগ্রহী ছিলেন। তাঁর পরবর্তী কাজগুলোতে এই প্রশিক্ষণনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।
শৈশব ও পারিবারিক জীবন নিয়ে তিনি খুব বেশি ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেননি। তাই তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় কিংবা ছোটবেলার নানা ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অভাবে অনুমাননির্ভর বিবরণ দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর শিক্ষাজীবন ও শিল্পী হয়ে ওঠার পথের দিকেই নজর দেওয়া ভালো।
পড়াশোনা ও থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের অভিনয়জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে থিয়েটারের মাধ্যমে। ২০০৪ সালে তিনি কলকাতায় আসেন এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যচর্চা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন তাঁকে অভিনয়ের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকগুলো শেখার সুযোগ করে দেয়।
২০০৫ সালে তিনি কলকাতার উহিনে (Uhinee) নাট্যদলে আনুষ্ঠানিক থিয়েটার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। সেখানে আদ্রিজা দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে অভিনয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মঞ্চনাটকে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে।
২০০৭ সালে স্নাতক পর্যায়ে তিনি নিজের শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে নাট্যবিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ইয়ং আর্টিস্ট স্কলারশিপও লাভ করেন। এই বৃত্তির আওতায় তিনি ফিজিক্যাল থিয়েটার নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান।
শুধু অভিনয়ের সংলাপ মুখস্থ করা নয়, শরীরী ভাষা, অঙ্গভঙ্গি, মঞ্চে চলাফেরা এবং চরিত্রের মানসিক অবস্থা প্রকাশ করার কৌশলও থিয়েটার প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনির্বাণের অভিনয়ে এসব বিষয়ে মনোযোগের পরিচয় পাওয়া যায়।
মঞ্চনাটক থেকে পেশাদার অভিনেতা
অনির্বাণের ক্যারিয়ারে থিয়েটার ছিল শুধু চলচ্চিত্রে প্রবেশের সিঁড়ি নয়; এটি তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১০ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মিনার্ভা রেপার্টরিতে পূর্ণকালীন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সেখানে ২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রযোজনায় অভিনয় করেন।
এরপর তিনি স্বাধীনভাবে থিয়েটারের কাজ শুরু করেন। এই সময়ে বিভিন্ন নাট্যকার ও পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি মঞ্চে নিজের অভিনয়শৈলী আরও পরিণত করার সুযোগ পান।
তাঁর উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘দেবী সর্পমস্তা’, ‘অন্তনি সৌদামিনী’, ‘নাগমণ্ডল’, ‘আদ্য শেষ রজনী’ এবং ‘অথৈ’। এসব প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি থিয়েটারপ্রেমীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
বিশেষ করে ‘আদ্য শেষ রজনী’ নাটকে অভিনয়ের জন্য ২০১৭ সালে তিনি মহিন্দ্রা এক্সেলেন্স ইন থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডসের (META) সেরা অভিনেতা বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন। এই স্বীকৃতি তাঁর মঞ্চাভিনয়ের দক্ষতাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
থিয়েটারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রেও তাঁকে সাহায্য করেছে। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সংলাপের পাশাপাশি চোখের অভিব্যক্তি, নীরবতা এবং শরীরী ভাষার ব্যবহার যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর বিভিন্ন চরিত্রে তার উদাহরণ পাওয়া যায়।
বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক
মঞ্চে কাজ করার পর অনির্বাণ ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে ‘কাদের কুলের বউ’ নামের একটি টেলিফিল্মের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজগতের যাত্রা শুরু হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। একই বছরে অপরাজিত চলচ্চিত্র নির্মাতা অপর্ণা সেন পরিচালিত ‘আরশিনগর’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন।
‘আরশিনগর’ ছিল শেক্সপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ অবলম্বনে নির্মিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। ছবিটিতে মন্টি চরিত্রে অভিনয় করে অনির্বাণ বড় পর্দায় নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
তবে শুধু একটি ছবিতে অভিনয় করেই তিনি পরিচিতির শীর্ষে পৌঁছে যাননি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়িয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থেকে ভিন্ন স্বভাব ও মানসিকতার মানুষকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
‘ঈগলের চোখ’ দিয়ে পরিচিতি বৃদ্ধি
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালের ‘ঈগলের চোখ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অরিন্দম শীল পরিচালিত এই গোয়েন্দাধর্মী ছবিতে তিনি বিষাণ রায় চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটির জটিলতা ও রহস্যময়তা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
এই ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে আরও বড় পরিসরে পরিচিত করে তোলে। ২০১৭ সালে তিনি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস ইস্টে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অভিনয়জীবনে এটি ছিল উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর একটি।
‘ঈগলের চোখ’-এর সাফল্যের পর তাঁকে আর কেবল থিয়েটারের অভিনেতা হিসেবে দেখার সুযোগ ছিল না। বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে তিনি ক্রমশ পরিচিত হয়ে উঠতে থাকেন। একই সঙ্গে নির্মাতাদের কাছেও তাঁর অভিনয়ক্ষমতা নতুন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
‘এক যে ছিল রাজা’, ‘গুমনামী’ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ছবি
অনির্বাণের চলচ্চিত্রজীবনে ২০১৮ ও ২০১৯ সাল ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘উমা’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘শাহজাহান রিজেন্সি’, ‘গুমনামী’, ‘বিবাহ অভিযান’ এবং ‘ঘরে বাইরে আজ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে।
‘এক যে ছিল রাজা’ ছবিতে তিনি সত্য ব্যানার্জির চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি ভাওয়াল সন্ন্যাসীর বহুল আলোচিত কাহিনির সঙ্গে সম্পর্কিত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গল্পে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের চরিত্র নির্বাচনের বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গুমনামী’ ছবিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান ও মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপট উঠে আসে। ছবিটি ঐতিহাসিক ঘটনা ও বিভিন্ন তত্ত্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল। এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
অন্যদিকে ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ এবং ‘বিবাহ অভিযান’-এর মতো ছবিতে তাঁর কাজ দেখিয়েছে যে তিনি শুধু গম্ভীর বা রহস্যনির্ভর চরিত্রেই সীমাবদ্ধ নন। গল্প ও চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী অভিনয়ের ধরন বদলানোর ক্ষমতা তাঁর অন্যতম শক্তি।
‘ঘরে বাইরে আজ’ ও অভিনয়ের নতুন মাত্রা
২০১৯ সালের ‘ঘরে বাইরে আজ’ ছবিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের আধুনিক পুনর্ব্যাখ্যা। ছবিতে অনির্বাণ নিখিলেশ চৌধুরীর চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রেম, সম্পর্ক, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আদর্শের দ্বন্দ্বকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল ছবিটির অন্যতম দিক।
এই ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়। চরিত্রটির মধ্যে সংযম, আবেগ এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের যে মিশ্রণ রয়েছে, তা ফুটিয়ে তোলার জন্য সূক্ষ্ম অভিনয়ের প্রয়োজন ছিল।
অনির্বাণের অভিনয়ের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অনেক সময় চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত অভিব্যক্তির আশ্রয় নেন না। সংলাপের বিরতি, দৃষ্টির পরিবর্তন কিংবা স্বরের ওঠানামার মাধ্যমেও চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। ‘ঘরে বাইরে আজ’-এর মতো ছবিতে এই ধরনের অভিনয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়
২০২০ সালের ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ছবিতে অনির্বাণ খোকা নামের এক সিরিয়াল কিলারের চরিত্রে অভিনয় করেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটি ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ক্রাইম থ্রিলার।
খোকা চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের আলোচিত ভূমিকাগুলোর একটি। এখানে তিনি এমন একজন মানুষকে পর্দায় তুলে ধরেন, যার আচরণ ও মানসিকতা সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। চরিত্রটির ভয়ংকর দিক ফুটিয়ে তোলার জন্য শুধু সংলাপ নয়, মুখের অভিব্যক্তি ও আচরণের ওপরও নির্ভর করতে হয়েছে।
অনির্বাণের ক্ষেত্রে এ ধরনের চরিত্রের গুরুত্ব রয়েছে, কারণ তিনি নেতিবাচক ভূমিকাকে একমাত্রিক করে দেখানোর পরিবর্তে চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পান। ফলে দর্শক তাঁর অভিনীত চরিত্রকে পছন্দ না করলেও অভিনয়ের দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করার অবকাশ পান।
ওয়েব সিরিজে অনির্বাণ ভট্টাচার্য
ওয়েব সিরিজের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অনির্বাণের অভিনয়জীবনেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়। বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ব্যোমকেশ’ এবং ‘মন্দার’।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীকে পর্দায় তুলে ধরা সহজ কাজ নয়। চরিত্রটির সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাই ব্যোমকেশের অভিনয়ে বুদ্ধিমত্তা, পর্যবেক্ষণক্ষমতা এবং সংযমের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। অনির্বাণ এই জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে ওয়েব সিরিজের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি অর্জন করেন।
তবে তাঁর ওয়েব সিরিজের কাজের মধ্যে ‘মন্দার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘ম্যাকবেথ’ নাটক থেকে অনুপ্রাণিত এই সিরিজে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেন। মূল নাটকের ক্ষমতার লোভ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলোকে বাংলার স্থানীয় পরিবেশে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘মন্দার’ তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, কারণ এখানে তিনি শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন নির্মাতা হিসেবেও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন।
‘বল্লভপুরের রূপকথা’: পরিচালনায় অনির্বাণ
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বল্লভপুরের রূপকথা’ অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বাদল সরকারের একই নামের নাটক অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে রহস্য, হাস্যরস এবং অতিপ্রাকৃত আবহের মিশ্রণ রয়েছে।
ছবিটির গল্পে একটি পুরোনো জমিদারবাড়ি, সম্পত্তি এবং সেই বাড়িকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলা ছবিতে ভূতের গল্প বলার যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তার সঙ্গে আধুনিক নির্মাণশৈলী ও হাস্যরসের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা দেখা যায় এই ছবিতে।
পরিচালক হিসেবে অনির্বাণের কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি গল্পের পরিবেশ ও চরিত্রের অভিনয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মঞ্চনাটকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক থাকার কারণে নাট্যরচনার কাঠামো, সংলাপ এবং চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা এখানে কাজে এসেছে।
‘মন্দার’-এর মতো গাঢ় ও অন্ধকার আবহের কাজের পর ‘বল্লভপুরের রূপকথা’য় ভিন্ন ধরনের গল্প বলার মাধ্যমে তিনি নিজের নির্মাণক্ষমতার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
‘অথৈ’ ও শেক্সপিয়রের নাটকের সঙ্গে সম্পর্ক
অনির্বাণের শিল্পীজীবনে শেক্সপিয়রের নাটক বারবার ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালের ‘অথৈ’ চলচ্চিত্রটি তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘ওথেলো’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে অনির্বাণ গোলো চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি পরিচালনা করেন অর্ণ মুখোপাধ্যায়, যিনি অনির্বাণের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সিনিয়র এবং দীর্ঘদিনের নাট্যসহযোগী।
‘অথৈ’ প্রথমে মঞ্চনাটক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। পরে সেই নাটককে চলচ্চিত্রে রূপান্তর করা হয়। মঞ্চের একটি সফল প্রযোজনাকে বড় পর্দায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অভিনয়, সংলাপ এবং দৃশ্য নির্মাণের ধরনে পরিবর্তন আনতে হয়। অনির্বাণ এই প্রকল্পে অভিনয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল পরিচালক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।
শেক্সপিয়রের নাটকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল একটি বা দুটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘আরশিনগর’, ‘মন্দার’ এবং ‘অথৈ’-এর মতো কাজের মধ্য দিয়ে দেখা যায়, ধ্রুপদি নাটকের গল্পকে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতায় নতুনভাবে উপস্থাপন করার প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ
বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অনির্বাণ হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। আশিমা ছিব্বর পরিচালিত এই ছবিতে রানি মুখার্জি প্রধান চরিত্রে ছিলেন।
একটি ভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করার মাধ্যমে অনির্বাণ বাংলা চলচ্চিত্রের বাইরের দর্শকদের কাছেও নিজের অভিনয় তুলে ধরার সুযোগ পান। তবে বাংলা ভাষা, থিয়েটার এবং স্থানীয় গল্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাঁর শিল্পীসত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।
তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বাংলা ভাষা ও নিজের সাংস্কৃতিক শিকড়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা ও প্রকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
অভিনয়ের বাইরে গান ও সংগীতচর্চা
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের প্রতিভা অভিনয় ও পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংগীতের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তিনি গান গেয়েছেন এবং চলচ্চিত্রের সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন।
‘শাহজাহান রিজেন্সি’ ছবির ‘কিছু চাইনি আমি’ গানের জন্য ২০২০ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ডসে সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের পুরস্কার লাভ করেন। এটি তাঁর বহুমুখী শিল্পীসত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
এ ছাড়া তাঁর ব্যান্ড ‘হুলিগ্যানিজম’ (Hooliganism) তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। ব্যান্ডটির গান ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’ সমসাময়িক সমাজের হতাশা, বেকারত্ব এবং তরুণদের মানসিক টানাপোড়েনের মতো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে।
গান ও অভিনয়ের মতো আলাদা মাধ্যমে কাজ করলেও অনির্বাণের সৃজনশীল আগ্রহের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। গল্প, ভাষা এবং মানুষের অভিজ্ঞতাকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করার প্রবণতা তাঁর বিভিন্ন কাজেই দেখা যায়।
ব্যক্তিগত জীবন ও বিবাহ
অনির্বাণ ভট্টাচার্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত। তাঁর স্ত্রী মধুরিমা গোস্বামী। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়।
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা পারিবারিক জীবনের নানা দিক নিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন না। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে অপ্রমাণিত গল্প বা অনুমান ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা যুক্তিযুক্ত।
পেশাগত জীবনে অনির্বাণের পরিচিতি যতই বিস্তৃত হোক, ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের বাইরে রাখার প্রবণতা তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের পরিসরকে সীমিত করেছে। ফলে তাঁর জীবনীতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে অভিনয়, থিয়েটার ও চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজই বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কাজ বিভিন্ন সময়ে পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস ইস্ট, ২০১৭: ‘ঈগলের চোখ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার।
মহিন্দ্রা এক্সেলেন্স ইন থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডস, ২০১৭: ‘আদ্য শেষ রজনী’ নাটকে অভিনয়ের জন্য সেরা প্রধান অভিনেতার পুরস্কার।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ডস, ২০২০: ‘বিবাহ অভিযান’ ছবির জন্য সেরা কমেডি অভিনেতার পুরস্কার।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ডস, ২০২০: ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ ছবির ‘কিছু চাইনি আমি’ গানের জন্য সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের পুরস্কার।
এই স্বীকৃতিগুলো তাঁর কাজের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে। থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে কমেডি, পার্শ্বচরিত্র এবং সংগীত—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।
বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর ভাবনা
অনির্বাণ শুধু অভিনয় করেন না, বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা ভাষা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ, নির্মাণের পরিবেশ এবং শিল্পীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
তাঁর মতে, ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য শুধু দক্ষ শিল্পী বা ভালো চিত্রনাট্য থাকলেই হয় না; দর্শকের কাছে ছবি পৌঁছানোর উপযুক্ত ব্যবস্থাও প্রয়োজন। সিনেমা হলের সংখ্যা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ এবং দর্শকের সঙ্গে ছবির সংযোগ—এসব বিষয়ও একটি চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিনয় ও পরিচালনার কাজের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, অভিনয়ের জন্য যেমন নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন, তেমনি পরিচালনার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা, চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ এবং নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকা জরুরি।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কাজের ধরন বুঝতে সাহায্য করে। জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে চরিত্র ও গল্পের প্রতি যত্নশীল থাকা তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ
বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও অনির্বাণ ভট্টাচার্য পরিচিত একটি নাম। দুই বাংলার ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিল থাকায় তাঁর অভিনীত অনেক কাজ বাংলাদেশের দর্শকের কাছেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
২০২৬ সালের ১৮ মে প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনির্বাণ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজের প্রশংসা করেন এবং এ দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান।
বাংলাদেশের অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং জয়া আহসানের অভিনয়ের প্রতিও তিনি প্রশংসা প্রকাশ করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গেও কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশে কাজ করার এই আগ্রহ দুই বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পের মধ্যে ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে আগ্রহ প্রকাশ করা এবং কোনো চলচ্চিত্রে কাজ চূড়ান্ত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই তাঁর বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা উচিত।
অনির্বাণ ভট্টাচার্য কেন আলাদা?
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ক্যারিয়ার পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—তিনি নিজেকে শুধু একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখেননি। থিয়েটারের প্রশিক্ষণ, চলচ্চিত্রে অভিনয়, ওয়েব সিরিজ পরিচালনা, পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণ এবং সংগীতচর্চা—সব মিলিয়ে তাঁর কাজের ক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত।
তবে তাঁর বিশেষত্ব শুধু বহুমুখী কাজের মধ্যে নয়। তিনি এমন অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলো প্রচলিত অর্থে নায়কসুলভ নয়। কখনও চরিত্রটি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, কখনও তার আচরণ রহস্যময়, আবার কখনও তার মধ্যে হাস্যরসের উপস্থিতি রয়েছে। এই বৈচিত্র্য তাঁকে বিভিন্ন ধরনের গল্পে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
থিয়েটার থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ তাঁর অভিনয়ের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে পরিচিত সাহিত্য ও নাটককে নতুন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
শেষকথা
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের শিল্পীজীবন দেখায়, একজন অভিনেতার পরিচিতি শুধু জনপ্রিয় ছবি বা আলোচিত চরিত্র দিয়ে তৈরি হয় না। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা, চরিত্রের প্রতি মনোযোগ এবং নতুন মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহও একজন শিল্পীর পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসে থিয়েটারকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া অনির্বাণ আজ বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেতা, পাশাপাশি একজন পরিচালক ও সংগীতশিল্পী। ‘ঈগলের চোখ’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’, ‘মন্দার’, ‘বল্লভপুরের রূপকথা’ এবং ‘অথৈ’-এর মতো কাজ তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
তাঁর ভবিষ্যৎ কাজ কোন দিকে এগোবে, তা সময়ই বলবে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর যাত্রা থেকে বোঝা যায়, অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প বলার বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আগ্রহই তাঁর শিল্পীসত্তার অন্যতম চালিকাশক্তি।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন:

