Jung Ho-yeon From Fashion Runways to Global Recognition

Jung Ho-yeon Korean actress and fashion model portrait
Jung Ho-yeon as Kang Sae-byeok in Squid Game
জং হো-ইয়ন জীবনী, মডেলিং থেকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠার গল্প

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদনজগতে এমন কিছু তারকা রয়েছেন, যাঁদের পরিচিতি একটি নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেই পরিচিতির পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। জং হো-ইয়নের গল্পটাও অনেকটা তেমন। মডেলিংয়ের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করার পর তিনি অভিনয়ে পা রাখেন। এরপর নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ Squid Game তাঁকে বিশ্বের অসংখ্য দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে।

তবে জং হো-ইয়নকে শুধু একটি জনপ্রিয় সিরিজের অভিনেত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর ক্যারিয়ারের পুরো চিত্রটা বোঝা যাবে না। ফ্যাশনজগতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ এবং নিজের কাজের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবার মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরও তিনি অভিনয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।

জং হো-ইয়নের জন্ম ও শৈশব

জং হো-ইয়নের জন্ম ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধীরে ধীরে নিজের আগ্রহ ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় তৈরি করেন। তবে তাঁর শৈশবের প্রতিটি ঘটনা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের সব তথ্য জনসমক্ষে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত নয়। তাই তাঁর জীবনের গল্প বুঝতে হলে মূলত মডেলিং ও অভিনয়ে প্রবেশের সময় থেকে এগোতে হয়।

মডেলিংয়ে আসার পেছনে তাঁর উচ্চতা ও বাহ্যিক গড়ন ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শুধু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনজগতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। সেখানে দরকার আত্মবিশ্বাস, নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রত্যাখ্যানের মুখেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। জং হো-ইয়নের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ঘটনাগুলোতে এই বিষয়গুলোরই প্রতিফলন দেখা যায়।

মডেলিংয়ের জগতে যাত্রা শুরু

জং হো-ইয়ন কিশোরী বয়সেই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১০ সালের দিকে তিনি পেশাদার মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সিউল ফ্যাশন উইকের বিভিন্ন শোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। শুরুতে তাঁর পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক পরিচিতি ছিল না। নিজের ছবি ও যোগাযোগের তথ্য নিয়ে ফ্যাশন শোতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছে তাঁকে।

এই সময়টা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, মডেলিংয়ে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যদের আস্থা অর্জন করাও জরুরি। ধীরে ধীরে তিনি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত হতে শুরু করেন।

২০১৩ সালে জং হো-ইয়ন Korea's Next Top Model-এর চতুর্থ সিজনে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় রানার-আপ হওয়ার মাধ্যমে তিনি আরও বেশি মানুষের নজরে আসেন। এই সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে এবং পেশাদার মডেল হিসেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দেয়।

এরপর তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনজগতে কাজ শুরু করেন। নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। লুই ভুইতোঁ, শ্যানেল ও মার্ক জ্যাকবসের মতো ফ্যাশন হাউসের সঙ্গে যুক্ত কাজ তাঁর মডেলিং ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে ওঠে।

একসময় ফ্যাশনজগতে জং হো-ইয়নের নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়। তাঁর ব্যতিক্রমী চেহারা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক থাকার দক্ষতা তাঁকে অন্য অনেক মডেলের ভিড় থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

মডেলিং থেকে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত

মডেলিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করার পরও জং হো-ইয়নের আগ্রহ এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে বিভিন্ন কাজের জন্য ভ্রমণ করার সময় তিনি একা অনেকটা সময় কাটাতেন। সেই সময় সিনেমা দেখা এবং বই পড়া তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হতে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহও বাড়তে থাকে।

২০২০ সালে তিনি অভিনয়শিল্পীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন। এর মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ফ্যাশন মডেল হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিনয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ।

মডেলিংয়ে যেখানে শরীরী ভাষা, পোশাক উপস্থাপন এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে অভিনয়ে একটি চরিত্রের অনুভূতি, মানসিক দ্বন্দ্ব ও আচরণ বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়। জং হো-ইয়নকেও এই পার্থক্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে।

তিনি এমন চরিত্রের সন্ধানে ছিলেন, যার মাধ্যমে নিজের অভিনয়ক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন। খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। তাঁর প্রথম বড় অভিনয়ের সুযোগই পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবন বদলে দেয়।

Squid Game যেভাবে বদলে দিল তাঁর জীবন

২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সিরিজ Squid Game জং হো-ইয়নের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হোয়াং ডং-হিউকের নির্মিত এই সিরিজে তিনি অভিনয় করেন কাং সে-বিয়ক চরিত্রে, যিনি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা এক তরুণী। সিরিজে তাঁর পরিচিতি ছিল প্রতিযোগী নম্বর ০৬৭ হিসেবে।

কাং সে-বিয়ক এমন একটি চরিত্র, যার আচরণে প্রথমদিকে কঠোরতা ও অবিশ্বাসের ছাপ দেখা যায়। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের কাছ থেকে দূরে থাকতে শিখিয়েছে। কিন্তু সেই কঠোরতার আড়ালে রয়েছে পরিবারকে ঘিরে গভীর টান, নিরাপদ জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রিয়জনদের জন্য কিছু করার তীব্র ইচ্ছা।

চরিত্রটির বিশেষত্ব ছিল, তার অনুভূতি সব সময় কথার মাধ্যমে প্রকাশিত হতো না। অনেক সময় চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি কিংবা নীরবতার মধ্য দিয়েই দর্শক তার ভেতরের কষ্ট বুঝতে পারতেন। জং হো-ইয়নের অভিনয়ে এই দিকটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

অভিনয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় পর্দায় আসার সুযোগ, অথচ তাঁকে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল, যার আবেগ ও ব্যক্তিত্ব ছিল বেশ জটিল। চরিত্রটির পেছনের গল্প বোঝার জন্য তাঁকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হয়। উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা, চরিত্রটির কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে কাজ করা এবং তার মানসিক অবস্থাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা ছিল সেই প্রস্তুতির অংশ।

সিরিজটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর জং হো-ইয়নও রাতারাতি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেন। দর্শকেরা তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি চরিত্রটির আবেগ, একাকিত্ব ও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিজেদের সংযোগ খুঁজে পান।

এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, Squid Game তাঁকে পরিচিতি এনে দিলেও তাঁর সাফল্য কেবল জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল না। চরিত্রটির জন্য প্রয়োজনীয় সংযম, আবেগ এবং শারীরিক অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে একজন সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।

অভিনয়ের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সাফল্য

Squid Game-এর সাফল্যের পর জং হো-ইয়নের সামনে আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতে নতুন দরজা খুলে যায়। তাঁর অভিনয় সমালোচক ও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০২২ সালে তিনি ২৮তম স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডসে একটি ড্রামা সিরিজে নারী অভিনেতার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পুরস্কার জেতেন। এটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।

একই বছর তিনি প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসে ড্রামা সিরিজে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর বিভাগে মনোনয়ন পান। এত অল্প অভিনয়-অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি অর্জন করা তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

তাঁর সাফল্যের প্রভাব শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশ্বজুড়ে নতুন দর্শক তাঁর কাজ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন এবং ফ্যাশনজগতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

তবে এত দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার অভিজ্ঞতা যে সব সময় সহজ ছিল, এমন নয়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জনপ্রিয়তার আকস্মিক পরিবর্তন এবং সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা এবং নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফ্যাশনজগতে জং হো-ইয়নের অবস্থান

অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগেই জং হো-ইয়ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশনজগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। Squid Game-এর সাফল্যের পর সেই পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। ২০২১ সালে লুই ভুইতোঁ তাঁকে তাদের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করে।

ফ্যাশনজগতে তাঁর সাফল্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০২২ সালে। সে বছর তিনি Vogue-এর ফেব্রুয়ারি সংখ্যার প্রচ্ছদে এককভাবে স্থান পান। কোরিয়া জুংআং ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাগাজিনটির ১৩০ বছরের ইতিহাসে একক প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া প্রথম পূর্ব এশীয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

এই অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্যাশনজগতে এশীয় মডেলদের দৃশ্যমানতার আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন মডেল হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।

জং হো-ইয়নের ক্যারিয়ারের বিশেষত্ব হলো, অভিনয় ও মডেলিংকে তিনি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেননি। বরং দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা একে অন্যের কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছে। ক্যামেরার সামনে কাজ করার অভ্যাস তাঁকে অভিনয়ে কিছুটা সুবিধা দিয়েছে, আবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্বের নতুন দিক প্রকাশ করেছে।

নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা

Squid Game-এর পর জং হো-ইয়ন এমন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ খুঁজেছেন, যেখানে অভিজ্ঞ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে নতুন কিছু শেখা সম্ভব। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যাপল টিভি প্লাসের সিরিজ Disclaimer-এ তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। সিরিজটিতে তাঁর সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন কেট ব্ল্যানচেট ও কেভিন ক্লাইন। পরিচালনায় ছিলেন আলফোনসো কুয়ারন।

একই বছরে নেটফ্লিক্সের কোরিয়ান কমেডি সিরিজ Chicken Nugget-এও তাঁর বিশেষ উপস্থিতি ছিল। এই কাজগুলো দেখায় যে, তাঁর ক্যারিয়ারকে কেবল Squid Game-এর সাফল্যের মধ্যে আটকে রাখার ইচ্ছা নেই। বরং ভিন্ন ধরনের নির্মাণ ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে।

২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার Hope তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। না হং-জিন পরিচালিত ছবিটিতে তিনি সুং-এ চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির গল্পে একটি গ্রামের বাসিন্দাদের অজানা ভিনগ্রহের প্রাণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। হো-ইয়নের চরিত্রটি একজন নবীন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সেই বিপদের মোকাবিলা করেন।

Hope তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এখানে তিনি হোয়াং জং-মিন, জো ইন-সুং, মাইকেল ফাসবেন্ডার ও অ্যালিসিয়া ভিকান্ডারের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। আগের কাজের তুলনায় এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের শারীরিক সক্রিয়তা ও অ্যাকশনধর্মী উপস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। মডেলিং থেকে অভিনয়ে আসার পর Squid Game তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছিল; আর Hope তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজের অভিনয়ক্ষমতার নতুন দিক তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

জং হো-ইয়ন সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত জীবনের তুলনায় কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ে বেশি আলোচনায় থাকেন। তাঁর জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক বিষয় ব্যক্তিগত। তাই তাঁকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যাচাই করা তথ্যের মধ্যেই থাকা জরুরি।

তাঁর সাক্ষাৎকারগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। জনপ্রিয়তা অর্জনের পর দ্রুত পরবর্তী বড় কাজ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বুঝে নেওয়া এবং কাজের মাধ্যমে শেখার গুরুত্বের কথা বলেছেন।

২০২১ সালে Squid Game তাঁকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছিল, তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নেওয়াও তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। ২০২৬ সালে Hope নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিরিজটির পর বিপুল মনোযোগের কারণে উদ্বেগ ও ভয়ের মতো অনুভূতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরে নিজের দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ ফিরে পাওয়া এবং ধীরে ধীরে নতুন কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এই অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারের একটি মানবিক দিক তুলে ধরে। পর্দায় সাফল্য যত বড়ই হোক, তার পেছনে থাকা মানুষটির জন্য পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সব সময় সহজ নয়। জং হো-ইয়নের ক্ষেত্রে সেই বাস্তবতা তাঁর কাজের গল্পেরই অংশ।

জং হো-ইয়নের ক্যারিয়ার কেন গুরুত্বপূর্ণ

জং হো-ইয়নের ক্যারিয়ারকে শুধু একজন মডেলের অভিনেত্রী হয়ে ওঠার গল্প হিসেবে দেখলে অনেক কিছু বাদ পড়ে যায়। তাঁর যাত্রায় রয়েছে নিজের উদ্যোগে সুযোগ খোঁজা, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনজগতে কাজ করা, প্রথম বড় অভিনয়েই কঠিন চরিত্র গ্রহণ করা এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়ার পরও নতুন করে শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

Squid Game তাঁকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, কিন্তু তাঁর পরবর্তী কাজগুলো প্রমাণ করে যে তিনি নিজের পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করতে চান। Disclaimer-এর মতো সিরিজ এবং Hope-এর মতো চলচ্চিত্রে কাজ করার মাধ্যমে তিনি ভিন্ন ধরনের গল্প ও নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।

তাঁর ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে এগোবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে মডেলিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক দর্শকের পরিচিতি এবং অভিনয়ে নতুন কিছু করার আগ্রহ তাঁকে সম্ভাবনাময় অবস্থানে রেখেছে।

সব মিলিয়ে, জং হো-ইয়নের গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তাঁর পরিবর্তনের ক্ষমতা। একটি সফল পেশা থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন, প্রথম বড় সুযোগে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এবং সাফল্যের পরও শেখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। এই কারণেই তিনি শুধু Squid Game-এর কাং সে-বিয়ক নন; তিনি এমন একজন শিল্পী, যাঁর ক্যারিয়ার সময়ের সঙ্গে আরও নতুন মাত্রা পেতে পারে।