Beyond the Unexpected: Inside Balaji Tharaneetharan’s Creative World

Balaji Tharaneetharan, Indian Tamil director and screenwriter
Balaji Tharaneetharan discussing creative storytelling and direction
বালাজি থারানীথারান: তামিল সিনেমায় নিজস্ব গল্প বলার ধরনে পরিচিত এক পরিচালক

ভারতীয় সিনেমার জগতে এমন অনেক পরিচালক রয়েছেন, যাঁরা বড় বাজেটের চমক কিংবা তারকাদের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর না করে গল্পের মধ্য দিয়েই দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। বালাজি থারানীথারান তাঁদের মধ্যে একজন। তামিল চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের জীবনের ছোট ছোট ঘটনা, মানুষের আচরণ, সম্পর্ক এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিকে তিনি ভিন্ন দৃষ্টিতে পর্দায় তুলে ধরতে পছন্দ করেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom মুক্তির পর থেকেই তিনি তামিল সিনেমার দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

পরিচালক হিসেবে বালাজির যাত্রা আরও একটি কারণে উল্লেখযোগ্য। তিনি শুধু প্রচলিত বিনোদনের ছকে গল্প সাজাতে চান না; বরং একটি সাধারণ ধারণার মধ্যেও নতুন কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কখনো হাস্যরস, কখনো আবেগ, আবার কখনো শিল্প ও শিল্পীর জীবনের গভীর প্রশ্ন তাঁর সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি বেড়েছে, আর সেই সঙ্গে দর্শকদের সামনে এসেছে তাঁর গল্প বলার আরও নানা দিক।

বালাজি থারানীথারান কে?

বালাজি থারানীথারান একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার, যিনি মূলত তামিল চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করেন। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে এমন কিছু গল্পের মাধ্যমে, যেগুলোর মূল আকর্ষণ শুধু ঘটনা নয়, বরং ঘটনাগুলোর পেছনে থাকা মানুষের অনুভূতি ও আচরণ।

পরিচালনায় আসার আগে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, করপোরেট চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র সম্পাদনার মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সংলাপ লেখার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের এই বিভিন্ন দিকের সঙ্গে পরিচিতি তাঁর পরবর্তী কাজের জন্য সহায়ক হয়েছিল বলে মনে করা যায়।

তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, জন্মতারিখ কিংবা পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা যায় এমন বিস্তারিত তথ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই তাঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অনুমাননির্ভর তথ্যের পরিবর্তে চলচ্চিত্রজীবন ও সৃজনশীল কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

পরিচালনায় অভিষেক এবং ‘Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom’

বালাজি থারানীথারানের পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom মুক্তি পায় ২০১২ সালে। ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয় সেতুপতি। পাশাপাশি গায়ত্রী ও বাগবতী পেরুমালসহ অন্য শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।

চলচ্চিত্রটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক তরুণ, যে নিজের বিয়ের ঠিক আগে স্মৃতিসংক্রান্ত অদ্ভুত এক সমস্যার মুখোমুখি হয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তে তার স্মৃতির বিভ্রান্তি থেকে একের পর এক অস্বস্তিকর ও হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরি করা যায়, ছবিটি তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এই সিনেমার গল্পের পেছনে বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। বালাজির পরিচিত একজনের জীবনে ঘটে যাওয়া স্মৃতিভ্রংশের অভিজ্ঞতা থেকেই গল্পটির ধারণা তৈরি হয়। বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কৌতুকপূর্ণ পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক অভিনয়ের সমন্বয় ছবিটিকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।

মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি ইতিবাচক সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া পায় এবং ধীরে ধীরে কাল্ট কমেডি হিসেবে পরিচিতি অর্জন করে। এই ছবির মাধ্যমে বালাজি থারানীথারান নিজের পরিচালনাশৈলীর একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন। একই সঙ্গে বিজয় সেতুপতির ক্যারিয়ারেও ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

প্রথম চলচ্চিত্রের সাফল্য বালাজির জন্য বড় সুযোগ তৈরি করলেও তিনি পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে একই ধরনের গল্প বেছে নেননি। বরং তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার ভিন্নতা দেখা যায়।

‘Oru Pakka Kathai’ এবং নির্মাণযাত্রার ভিন্ন অধ্যায়

বালাজি থারানীথারানের পরিচালিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র Oru Pakka Kathai। এতে অভিনয় করেন কালিদাস জয়রাম ও মেঘা আকাশ। ছবিটির পরিকল্পনা ও নির্মাণের পর দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে বেশ সময় লেগেছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে এটি জি৫ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়।

এই চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা তাঁর নির্মাণজীবনের একটি আলাদা অধ্যায়। প্রথম ছবির পরপরই বড় পর্দায় নতুন কাজ নিয়ে হাজির হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ বিরতির মধ্যেও তাঁর তৈরি গল্পটি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের সামনে আসে।

Oru Pakka Kathai নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বালাজির কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—একটি চলচ্চিত্রের যাত্রা সব সময় নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় না। প্রযোজনা, মুক্তির পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত পরিবেশনার সুযোগও একটি ছবির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

‘Seethakaathi’: শিল্পী, অভিনয় ও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া Seethakaathi বালাজি থারানীথারানের পরিচালিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। এতে আবারও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয় সেতুপতি। ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে আয়্যা আথিমূলম নামের একজন প্রবীণ মঞ্চশিল্পীকে ঘিরে, যিনি অভিনয় ও মঞ্চের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত।

এখানে বালাজি শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন তুলে ধরেননি; বরং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, শিল্পীর আত্মপরিচয় এবং মৃত্যুর পরও একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাজ কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সেই বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।

ছবিটির ভাবনার পেছনে মঞ্চনাটকের জগৎ সম্পর্কে পরিচালকের কৌতূহল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি এমন শিল্পীদের জীবন নিয়ে আগ্রহী হয়েছিলেন, যাঁরা জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থের চেয়ে মঞ্চে অভিনয়ের আনন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রটির গল্পের রূপ তৈরি হয়।

বিজয় সেতুপতিকে একজন প্রবীণ শিল্পীর চরিত্রে উপস্থাপন করাও ছিল নির্মাণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চরিত্রটির বয়স ও শারীরিক উপস্থিতি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিশেষ মেকআপ ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবিতে অভিজ্ঞ মঞ্চশিল্পীদের অংশগ্রহণও গল্পের জগৎকে আরও বাস্তব করে তুলতে সাহায্য করে।

Seethakaathi বালাজির আগের কাজের তুলনায় আলাদা ধরনের চলচ্চিত্র। এখানে কৌতুকের পাশাপাশি শিল্প ও শিল্পীর সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে ছবিটি তাঁর পরিচালনাজীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিজয় সেতুপতির সঙ্গে সৃজনশীল সম্পর্ক

বালাজি থারানীথারানের চলচ্চিত্রজীবন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিজয় সেতুপতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করতেই হয়। Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom থেকে শুরু করে Seethakaathi এবং পরবর্তী সময়ে Baththa—এই সহযোগিতা বিভিন্ন পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

দুজনের কাজের সম্পর্কের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো, বিজয় সেতুপতিকে শুধু প্রচলিত নায়কের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না বালাজি। চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিনেতাকে ভিন্ন বয়স, স্বভাব ও মানসিক অবস্থার মানুষ হিসেবে পর্দায় উপস্থাপন করার সুযোগ তিনি তৈরি করেন।

বিজয় সেতুপতির অভিনয়েও চরিত্রের দুর্বলতা, দ্বিধা কিংবা অস্বস্তির মতো দিক প্রকাশের জায়গা থাকে। ফলে তাঁদের একসঙ্গে করা চলচ্চিত্রগুলোতে নায়ককে সব সময় শক্তিশালী বা নিখুঁত হিসেবে দেখানোর বাধ্যবাধকতা চোখে পড়ে না।

দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ফলে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। তবে সেই পরিচিতির মধ্যেও বালাজির কাছে চরিত্র ও গল্পের প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা তামিল সিনেমায় অভিনেতা ও পরিচালকের দীর্ঘমেয়াদি সৃজনশীল সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

‘Baththa’: পরিচিত গল্পের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

২০২৬ সালে বালাজি থারানীথারানের পরিচালনায় আসে Baththa, যেখানে আবারও বিজয় সেতুপতিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায়। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা-সমর্থনে যুক্ত ছিলেন পরিচালক অ্যাটলি। ছবিটির কাহিনিতে একজন গ্যাংস্টার এবং একটি শিশুর মধ্যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গল্পের মূল চরিত্র বাথ্থা একজন গ্যাংস্টার, যিনি অন্যদের কাছে ভয়ংকর মানুষ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু একটি স্কুলের শৌচাগারে আটকা পড়ে যাওয়ার পর তাঁর জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা তাঁকে নিজের জীবন ও আচরণ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। একটি শিশুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে নতুন দিকে এগিয়ে যায়।

এখানে বালাজির উদ্দেশ্য কেবল অপরাধজগতের উত্তেজনা দেখানো নয়। বরং একজন মানুষের অহংকার, ভয়, রাগ এবং নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। গ্যাংস্টার চরিত্রকে অতিমানবীয় নায়ক হিসেবে না দেখিয়ে তাঁর মানবিক ও মানসিক দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছবিটির ভাবনার পেছনে পরিচালকের শৈশবের কিছু স্মৃতির প্রভাব রয়েছে। ছোটবেলায় স্কুলের একটি শৌচাগারে শিক্ষককে ভুল করে আটকে দেওয়ার ঘটনা এবং নিজের কিছু ভয় ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে গল্প তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলে তিনি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

Baththa তাঁর গল্প বলার ধরনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। পরিচিত একটি চরিত্রের ধারণা ব্যবহার করেও কীভাবে মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্ক ও পরিবর্তনের গল্প বলা যায়, ছবিটি তার উদাহরণ। এটি বালাজির আগের কাজগুলোর সঙ্গে বিষয়গত কিছু মিল রাখলেও নিজস্ব কাহিনির মাধ্যমে আলাদা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করে।

বালাজি থারানীথারানের পরিচালনাশৈলী

বালাজির চলচ্চিত্রগুলো পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সহজেই চোখে পড়ে। প্রথমত, তিনি সাধারণ পরিস্থিতির মধ্যে গল্পের সম্ভাবনা খুঁজে পান। স্মৃতি হারিয়ে ফেলার একটি ঘটনা, একজন প্রবীণ মঞ্চশিল্পীর জীবন কিংবা শৌচাগারে আটকে পড়া একজন গ্যাংস্টার—প্রতিটি ধারণাই প্রথমে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু সঠিকভাবে চরিত্র ও পরিস্থিতি সাজালে সেখান থেকেই পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের উপাদান তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, তাঁর সিনেমায় হাস্যরসের পাশাপাশি আবেগের জায়গা থাকে। বিশেষ করে Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom ও Baththa দেখায়, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকেও হাস্যরস তৈরি করা সম্ভব, আবার সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই মানুষের ভয় ও দুর্বলতা প্রকাশ করা যায়।

তৃতীয়ত, তিনি চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেন। কোনো মানুষ বাইরে থেকে শক্তিশালী দেখালেই যে তার ভেতরে ভয় বা অনিশ্চয়তা থাকবে না, এমন নয়। আবার একজন শিল্পীর সাফল্যকে শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ দিয়ে বিচার করাও যথেষ্ট নয়। তাঁর বিভিন্ন চলচ্চিত্রে এই ধরনের ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

তবে তাঁর সব চলচ্চিত্র একই ধরনের নয়। Seethakaathi যেখানে শিল্প ও শিল্পীর জীবন নিয়ে বেশি মনোযোগী, সেখানে Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom মূলত কৌতুকনির্ভর। এই বৈচিত্র্যই তাঁর পরিচালনাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

চিত্রনাট্য লেখার প্রতি গুরুত্ব

পরিচালক হিসেবে পরিচিত হলেও বালাজি থারানীথারানের কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চিত্রনাট্য লেখা। তাঁর সাক্ষাৎকারগুলোতে গল্পের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ, লেখার শৃঙ্খলা এবং উপযুক্ত ধারণা খুঁজে পাওয়ার গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে।

একটি ভালো ধারণা পেলেই যে সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরি করতে হবে, এমন চিন্তায় তিনি সব সময় বিশ্বাসী নন। কখনো গল্পের জন্য অপেক্ষা করা, কখনো চিত্রনাট্য নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা—এসব তাঁর নির্মাণযাত্রার অংশ।

তিনি আরও মনে করেন, একজন লেখকের নিজের গল্পের প্রতি আস্থা থাকা প্রয়োজন। দর্শক কী পছন্দ করবেন, সেই হিসাবকে একমাত্র বিবেচনা করে গল্প লেখা ঠিক নয়। নির্মাতা নিজে গল্পটির প্রতি বিশ্বাসী হলে সেটি পর্দায় উপস্থাপনের সময়ও সেই আন্তরিকতা ধরে রাখা সহজ হয়।

তামিল চলচ্চিত্রশিল্পে চিত্রনাট্যকারদের জন্য আরও জায়গা তৈরি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তাঁর মতে, পরিচালক ও লেখকের কাজ আলাদা হলেও তাঁদের সহযোগিতা চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, তিনি সিনেমাকে শুধু পরিচালনার কাজ হিসেবে নয়, বরং গল্প নির্মাণের একটি সম্মিলিত শিল্প হিসেবেও দেখেন।

বালাজি থারানীথারানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

বালাজি থারানীথারানের পরিচালিত ও সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom (২০১২): স্মৃতির বিভ্রান্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত কৌতুকধর্মী চলচ্চিত্র, যা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দেয়।

  • Seethakaathi (২০১৮): মঞ্চশিল্পী, অভিনয় এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র।

  • Oru Pakka Kathai (২০২০): কালিদাস জয়রাম ও মেঘা আকাশ অভিনীত চলচ্চিত্র, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়।

  • Baththa (২০২৬): বিজয় সেতুপতি অভিনীত চলচ্চিত্র, যেখানে গ্যাংস্টারের জীবন ও একটি শিশুর সঙ্গে তার অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Modern Love Chennai সংকলনধর্মী সিরিজেও তিনি লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের তালিকা থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ভিন্ন ধরনের গল্প বলার মাধ্যমেও নিজের অভিজ্ঞতা বিস্তৃত করেছেন।

উপসংহার

বালাজি থারানীথারানের চলচ্চিত্রজীবন প্রমাণ করে, একজন পরিচালকের পরিচিতি তৈরি করার জন্য সব সময় বিশাল বাজেট কিংবা প্রচলিত বাণিজ্যিক ছকের প্রয়োজন হয় না। একটি আকর্ষণীয় ধারণা, চরিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার বোঝাপড়া এবং গল্পকে নিজের মতো করে উপস্থাপনের সাহসও দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারে।

তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র Naduvula Konjam Pakkatha Kaanom তাঁকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছিল, পরবর্তী কাজগুলোতে তিনি সেই পরিচয়ের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। Seethakaathi-তে শিল্পীর জীবন, Oru Pakka Kathai-তে ভিন্নধর্মী কাহিনি এবং Baththa-তে মানুষের ভয় ও মানসিক পরিবর্তনের মতো বিষয় তুলে ধরে তিনি নিজের কাজের বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন।

বালাজির নির্মাণশৈলী সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, এমন দাবি করা যায় না। তবে প্রচলিত গল্পের বাইরে গিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খোঁজার আগ্রহ তাঁর চলচ্চিত্রগুলোকে আলাদা করে চেনার সুযোগ দেয়। তামিল সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যই তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শক্তিগুলোর একটি।