কায়াদু লোহর: মডেলিং থেকে দক্ষিণী সিনেমায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার গল্প
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নতুন প্রজন্মের যেসব অভিনেত্রী খুব অল্প সময়ে দর্শকদের নজরে এসেছেন, তাদের মধ্যে কায়াদু লোহর অন্যতম। সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করার আগ্রহ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। কান্নাডা সিনেমা দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে মালয়ালম, তেলুগু, মারাঠি ও তামিল সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
অসম থেকে পুনে, তারপর সিনেমার জগতে
কায়াদু লোহরের জন্ম ১১ এপ্রিল ২০০০ সালে ভারতের আসামের তেজপুরে। পরে তিনি পুনেতে বেড়ে ওঠেন। সেখানেই তাঁর পড়াশোনার বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। সেন্ট ফ্রান্সিস ডি সেলস স্কুল ও ডন বস্কো কলেজে পড়াশোনার পর তিনি সাভিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। অর্থাৎ অভিনয়ে আসার আগেই পড়াশোনার দিক থেকেও নিজের ভিত্তিটা শক্ত করেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর পরিচিতির শুরু সরাসরি সিনেমা দিয়ে নয়। মডেলিং ও beauty pageant-এর মাধ্যমে প্রথমবার আলোচনায় আসেন কায়াদু। একটি জুয়েলারি pageant প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর তাঁর মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর তিনি Times of India-এর Everyuth Fresh Face Season 12-এর বিজয়ী হন। এই অর্জনই তাঁকে বিনোদন জগতের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
Mugilpete দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক
২০২১ সালে কন্নড় ভাষার সিনেমা Mugilpete দিয়ে বড় পর্দায় অভিনয়ে অভিষেক ঘটে কায়াদু লোহরের। ছবিতে তিনি মনোরঞ্জন রবিচন্দ্রনের বিপরীতে অভিনয় করেন। প্রথম সিনেমাতেই প্রধান নারী চরিত্রে সুযোগ পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ছিল।
এরপর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০২২ সালে মালয়ালম সিনেমা Pathonpatham Noottandu-তে তাঁকে দেখা যায় নাঙ্গেলি চরিত্রে। ঐতিহাসিক আবহের এই সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের আরও বড় পরিসরে পরিচিত হন। কায়াদু নিজেও পরে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, মালয়ালম ভাষার পরিবেশে কাজের শুরুতে তাঁর জন্য বিষয়টি সহজ ছিল না।
একের পর এক ভাষায় কাজ
কায়াদু লোহরের ক্যারিয়ারের অন্যতম আকর্ষণ হলো তিনি একটি নির্দিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিতে আটকে থাকেননি। ২০২২ সালেই Alluri সিনেমার মাধ্যমে তেলুগু চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। এরপর ২০২৩ সালে I Prem U দিয়ে মারাঠি সিনেমাতেও কাজ করেন। পরবর্তীতে মালয়ালম সিনেমার Oru Jaathi Jaathakam এবং Ajayante Randam Moshanam-এর মতো কাজের সঙ্গেও যুক্ত হন।
ভিন্ন ভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করার ফলে তাঁর অভিনয়জীবনও ধীরে ধীরে আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে নতুন ভাষা ও কাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Dragon বদলে দেয় ক্যারিয়ারের গতি
তবে কায়াদু লোহরের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের তামিল সিনেমা Dragon দিয়ে। অশ্বথ মারিমুথু পরিচালিত এই সিনেমায় প্রদীপ রঙ্গনাথনের বিপরীতে পল্লবী চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর কায়াদুর অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এর আগে তিনি বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও Dragon তাঁকে অনেক বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়। সিনেমাটির সাফল্যের পর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর কাজের সুযোগও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালে তাঁর একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে বা দর্শকদের সামনে এসেছে, যার মধ্যে Idhayam Murali, Pallichattambi, Funky, I'm Game এবং The Paradise উল্লেখযোগ্য।
নানির সঙ্গে The Paradise
কায়াদু লোহরের সাম্প্রতিক আলোচিত কাজগুলোর একটি হলো তেলুগু সিনেমা The Paradise। এতে তিনি নানির সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটি ১৯৮০-এর দশকের সেকেন্দ্রাবাদের প্রেক্ষাপটে তৈরি এবং শ্রীকান্ত ওদেলা এটি পরিচালনা করেছেন। কায়াদুর ক্যারিয়ারে এই সিনেমাটিকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া তাঁর সামনে আরও কয়েকটি বড় প্রজেক্ট রয়েছে। বর্তমান ফিল্মোগ্রাফিতে Suriya 48, Manjanathi এবং Thaaram-এর মতো সিনেমার নামও রয়েছে। ফলে বোঝা যায়, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কায়াদু লোহরের যাত্রাটা এখনো বেশ গতিশীল।
নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প
কায়াদু লোহরের গল্পটা শুধু একজন সুন্দরী অভিনেত্রীর সিনেমায় আসার গল্প নয়। মডেলিং দিয়ে শুরু করে কন্নড় সিনেমায় অভিষেক, এরপর মালয়ালম ও তেলুগু সিনেমায় কাজ, মারাঠি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা এবং শেষ পর্যন্ত Dragon-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি—পুরো যাত্রাটাই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প।
সবচেয়ে interesting বিষয় হলো, তাঁর ক্যারিয়ার এখনো শুরুর দিকেই। বয়স কম হলেও ইতোমধ্যে একাধিক ভারতীয় ভাষার সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। সামনে আরও ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কায়াদু লোহরকে দেখা যায় কি না, সেটিই এখন তাঁর ভক্তদের আগ্রহের জায়গা। দক্ষিণী সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর পথচলা তাই নিঃসন্দেহে নজর রাখার মতো।

