Shubhodip Mukherjee: বাংলা বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা এক নির্মাতার গল্প
বাংলা বিনোদন জগতে অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করেন। কেউ অভিনয় দিয়ে শুরু করেন, কেউ লেখালেখি বা ক্যামেরার পেছনের কাজ দিয়ে। Shubhodip Mukherjee-এর পথটাও অনেকটা তেমন। পরিচালনার পাশাপাশি তিনি সহকারী পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যামেরার পেছনে বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্টে কাজ করার পর ২০২৬ সালে Virginpur পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন।
শুভদীপ মুখার্জির ক্যারিয়ার সম্পর্কে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাজের শুরুটা হয়েছিল সহকারী পরিচালকের বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালের Gora থেকে শুরু করে Sati, Aneker Modhey Akjon, Sesh Anka এবং Mandobasar Galpo-এর মতো প্রজেক্টে তিনি সহকারী পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ক্যামেরার পেছন থেকে নির্মাণের জগতে
শুভদীপ শুধু পরিচালনা বিভাগের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে চিত্রগ্রাহক হিসেবেও বেশ কিছু কাজ রয়েছে। Smriticharon, Portrait, Rupkothar Kahini এবং The Fourth Dimension—এসব স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রজেক্টে তাঁর cinematography credit পাওয়া যায়।
২০১৪ সালের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি Smriticharon তাঁর ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। এই ছবিতে তিনি পরিচালক ও লেখক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি cinematographer-এর দায়িত্বও পালন করেন। অর্থাৎ একটি প্রজেক্টের গল্প থেকে শুরু করে ক্যামেরার কাজ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁকে দেখা যায়।
এই অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তী সময়ে তাঁর নির্মাণের কাজে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটি আলাদা করে বিচার করার মতো বিষয়। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে একটা বিষয় স্পষ্ট—পরিচালনায় আসার আগে ক্যামেরা এবং সেটের বিভিন্ন বিভাগের কাজ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ তিনি পেয়েছেন।
Mandobasar Galpo-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন লেখক হিসেবে
২০১৭ সালের বাংলা ছবি Mandobasar Galpo শুভদীপ মুখার্জির ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছবিটির পরিচালক ছিলেন Tathagata Banerjee এবং গল্প ও চিত্রনাট্যের কাজে Sanjib Banerji-এর সঙ্গে Shubhodip Mukherjee-ও যুক্ত ছিলেন।
ছবিটির গল্প আবর্তিত হয় Ahana Sen নামের একজন filmmaker-কে ঘিরে, যিনি একটি কঠিন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর বন্ধু psychiatrist Sayantan তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। ছবিতে Paoli Dam, Parambrata Chattopadhyay এবং Kaushik Sen-এর মতো অভিনেতারা অভিনয় করেছিলেন।
এখানে শুভদীপের কাজটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি দেখায় যে তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু পরিচালনা বা সহকারী পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; গল্প বলার এবং চিত্রনাট্য নির্মাণের ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন।
সহকারী পরিচালক থেকে Associate Director
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দায়িত্বও বড় হয়েছে। ২০২০ সালের Chick Flick-এ তিনি chief assistant director এবং first assistant director হিসেবে কাজ করেন। এরপর Dream Boutique এবং ২০২৩ সালের Olokkhis in Goa ও Raja Rani Romeo-এর মতো প্রজেক্টে associate director হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।
বিশেষ করে Raja Rani Romeo-তে তাঁর associate director হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিক কাজগুলো তাঁর পরিচালনার অভিজ্ঞতা তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবে তাঁর ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ বা পরিচালনায় আসার পেছনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না।
Virginpur: পরিচালক হিসেবে নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালে শুভদীপ মুখার্জি পরিচালিত Virginpur তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করে। KLiKK-এ প্রকাশিত এই বাংলা প্রজেক্টে অভিনয় করেছেন Satyam Bhattacharya, Rwitobroto Mukherjee, Sharly Modak, Nishantika Das, Biswajit Das, Deboprasad Haldar, Suvajit Kar এবং Sagnik Chatterjee।
Virginpur-এর গল্পে গ্রামের এক সরল যুবক Jitu কলেজে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে Virginpur-এ আসে। সেখানে Rai নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি একটি kidnapping conspiracy-র দিকে চলে যায়। এরপর প্রেম, প্রতিশোধ, লোভ এবং নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা গল্পটিকে এগিয়ে নেয়।
প্রজেক্টটিকে KLiKK কমেডি ও pulp fiction ঘরানার হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সিরিজটির পরিচালক হিসেবে সরাসরি Shubhodip Mukherjee-এর নাম দেওয়া হয়েছে।
Virginpur ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই ডিজিটালভাবে মুক্তি পায়।
তাঁর কাজের ধরন নিয়ে কী বলা যায়?
শুভদীপ মুখার্জির ক্যারিয়ারকে একক কোনো পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখা কঠিন। তিনি একইসঙ্গে assistant director, associate director, cinematographer, writer এবং director হিসেবে কাজ করেছেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে সহকারী পরিচালক হিসেবে সেটের কাজ শেখা, এরপর cinematography ও writing-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে নিজে পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া—তাঁর পথচলায় এই পরিবর্তনগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর কাজের তালিকাতেও সেই বৈচিত্র্য দেখা যায়। একদিকে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি Smriticharon, অন্যদিকে Mandobasar Galpo-এর মতো feature film-এ writing credit, আবার ২০২৬ সালে Virginpur-এর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা প্রজেক্ট পরিচালনা—সব মিলিয়ে বাংলা বিনোদন জগতে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়িয়েছেন।
সামনে শুভদীপ মুখার্জিকে কোথায় দেখা যাবে?
২০২৬ সালের Virginpur তাঁর পরিচালক হিসেবে পরিচিতিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে তাঁর ক্যারিয়ার এখনও এমন পর্যায়ে যেখানে ভবিষ্যতের কাজগুলোই অনেকটা নির্ধারণ করবে তিনি কোন ধরনের নির্মাতা হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন।
তবে এখন পর্যন্ত তাঁর পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি একেবারে সরাসরি পরিচালকের চেয়ারে বসে শুরু করেননি। বরং assistant director হিসেবে কাজ করার পর associate direction, cinematography এবং writing-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে ধীরে ধীরে পরিচালনার দিকে এগিয়েছেন।
বাংলা বিনোদন জগতে এমন বহুমুখী অভিজ্ঞতা একজন নির্মাতার জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। Virginpur সেই যাত্রার একটি নতুন ধাপ, আর ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে আরও কী ধরনের গল্প বা নির্মাণশৈলী দেখা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

