আইশা খান: নাটক থেকে OTT, নিজের অভিনয় দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে আইশা খান এমন একটি নাম, যাকে একই সঙ্গে নাটক, ওয়েব কনটেন্ট এবং বড় পর্দায় দেখা গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা ও নাচের সঙ্গেও তার পরিচয় রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ই হয়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বিশেষ করে OTT-তে কয়েকটি আলোচিত কাজের পর দর্শকের কাছে আইশা খানের পরিচিতি আরও বেড়েছে।
ছোটবেলা থেকেই বিনোদনজগতের সঙ্গে পরিচয়
আইশা খানের পুরো নাম তাহিয়া তাজিন খান আইশা। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে নাচ শেখার মধ্য দিয়ে বিনোদনজগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ছোট বয়সেই টেলিভিশনের বিভিন্ন কাজের সুযোগ পেতে শুরু করেন তিনি।
শিশুশিল্পী হিসেবে নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। সময়ের সঙ্গে মডেলিং এবং উপস্থাপনার কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘বিনোদন সারাদিন’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থাপক হিসেবেও দর্শকের সামনে নিয়মিত আসেন।
তবে অভিনয়ের জায়গাটা তিনি কখনো ছেড়ে দেননি। বরং ধীরে ধীরে নাটক থেকে ওয়েব কনটেন্টে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন।
‘কন্ট্রাক্ট’ দিয়ে OTT-তে আলোচনায়
আইশা খানের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ ‘কন্ট্রাক্ট’। জি-ফাইভের এই ওয়েব সিরিজে আরিফিন শুভ ও শ্যামল মাওলার মতো অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। সিরিজটিতে অভিনয়ের পর OTT দর্শকদের মধ্যে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।
এরপর একে একে ‘এই এমন পরিচয়’, ‘দাগ’ এবং ‘ক্যাফে ডিজায়ার’-এর মতো ওয়েব কনটেন্টে দেখা যায় তাকে। একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থেকে ভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে কাজ করার আগ্রহের কথাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আইশা।
‘কাইজার’ ও ‘দাগ’-এ অন্যরকম পরিচিতি
OTT-তে আইশার কাজের তালিকায় ‘কাইজার’ এবং ‘দাগ’ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ‘কাইজার’-এর মতো আলোচিত ওয়েব সিরিজে কাজ করার মাধ্যমে তিনি OTT-র নিয়মিত মুখগুলোর একজন হয়ে ওঠেন। পরে ‘মারকিউলিস’, ‘রক্ত লাগবে’, ‘বুকের মধ্যে আগুন’সহ আরও কয়েকটি ওয়েব প্রজেক্টে অভিনয় করেছেন।
তবে আইশার অভিনয়জীবনকে শুধু OTT দিয়ে দেখলে তার পথচলার পুরো ছবিটা পাওয়া যাবে না। টেলিভিশনের নাটকেও তিনি নিয়মিত কাজ করেছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের পছন্দের চরিত্র বেছে নেওয়ার দিকে মনোযোগী হয়েছেন।
‘বুক পকেটের গল্প’ ও নতুন দর্শক
‘বুক পকেটের গল্প’ আইশা খানের আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে ‘মালিহা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। চরিত্রটির মাধ্যমে তাকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ পান দর্শকরা।
তার কাজের ক্ষেত্রে একটা বিষয় লক্ষ করার মতো—তিনি শুধু বেশি সংখ্যক নাটক বা ওয়েব সিরিজে অভিনয় করার দিকে না গিয়ে চরিত্রের বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করেন। এ কারণেই কখনো টেলিভিশনের গল্প, কখনো OTT-র তুলনামূলক ভিন্ন ধরনের চরিত্রে তাকে দেখা যায়।
বড় পর্দাতেও পা রেখেছেন
নাটক ও OTT-র পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করেছেন আইশা খান। তার অভিনীত ‘আহত ফুলের গল্প’ তার চলচ্চিত্রজীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এরপর বেশ কিছু সময় পর বড় পর্দায় আবারও দেখা যায় তাকে ‘ভয়াল’ সিনেমায়।
২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শেকড়’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন আইশা। সিনেমাটিতে ফাল্গুনী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নতুন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
উপস্থাপনাতেও আইশার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি
অভিনয়ের বাইরে উপস্থাপনাও আইশার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালে তিনি ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র পুরো একটি সিজন উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। এই কাজের কারণে ২০২৫ সালের শেষদিকে কয়েক মাস নতুন নাটকের শুটিং থেকেও দূরে ছিলেন।
পরে ২০২৬ সালে আবার নাটকের কাজে ফিরেছেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে একাধিক নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন কাজেও ব্যস্ত হয়েছেন।
চরিত্র বাছাইয়ে নিজের ভাবনা
আইশা খানের অভিনয়জীবনে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো, তিনি নিজের জন্য একই ধরনের চরিত্র ধরে রাখতে চান না। ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার আগ্রহের কথা তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন।
তার অভিনয়ের পথচলাটাও তাই ধীরে ধীরে বদলেছে। একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে উপস্থাপনা, নাটক, OTT এবং সিনেমা—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
বর্তমানে দর্শকের কাছে আইশা খান শুধু নাটকের অভিনেত্রী নন। OTT-র পরিচিত মুখ হিসেবেও তার আলাদা জায়গা তৈরি হয়েছে। সামনে আরও ভিন্ন ধরনের চরিত্রে তাকে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন তার দর্শকদের আগ্রহের জায়গা। আর এখন পর্যন্ত তার কাজের দিকে তাকালে বলা যায়, একই জায়গায় থেমে থাকার চেয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টাটাই আইশার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

