আলি ফজল: ‘3 Idiots’ থেকে ‘Mirzapur’, নিজের অভিনয়েই তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়
ভারতীয় অভিনেতা আলি ফজলকে প্রথম দেখার পর হয়তো অনেক দর্শক ভাবেননি, একদিন তিনি বলিউডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও নিজের পরিচিতি তৈরি করবেন। তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল ছোট ছোট চরিত্র দিয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন অভিনেতার পরিচয় শুধু পর্দায় কতক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
২০০৯ সালের 3 Idiots ছবিতে জয় লোবো চরিত্রে তাঁর অভিনয় অনেকের মনে দাগ কেটেছিল। এরপর Fukrey ছবিতে জাফরের চরিত্র, Victoria & Abdul-এ আবদুল করিম এবং ওয়েব সিরিজ Mirzapur-এ গুড্ডু পণ্ডিতের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে ভিন্ন ভিন্ন দিকে এগিয়ে নিয়েছেন।
আলি ফজলের অভিনয়জীবনের বিশেষত্ব হলো, তিনি একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকেননি। কখনো তাঁকে দেখা গেছে হাস্যরসাত্মক গল্পে, কখনো আবেগনির্ভর নাটকে, আবার কখনো অপরাধজগতের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে। এই বৈচিত্র্যই তাঁকে সমসাময়িক ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে।
আলি ফজলের জন্ম ও শৈশব
আলি ফজলের জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর, ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ শহরের সঙ্গে যুক্ত এক পরিবারে। শৈশবের বড় একটি অংশ কেটেছে লখনউয়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি দেরাদুনের দ্য ডুন স্কুলে পড়াশোনা করেন। স্কুলজীবনেই অভিনয় ও মঞ্চনাটকের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
ছোটবেলায় তাঁর আগ্রহ শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। খেলাধুলার প্রতিও আকর্ষণ ছিল। তবে স্কুলের নাটকে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনয়ের জগতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলা, দর্শকের সামনে নিজেকে প্রকাশ করা এবং একটি চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর আলি মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এগিয়ে যান।
তাঁর শুরুর গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনি সরাসরি বড় চরিত্রের ওপর নির্ভর করেননি। বরং সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
অভিনয়জগতে প্রথম পদক্ষেপ
আলি ফজলের অভিনয়জীবনের শুরু হয় ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র The Other End of the Line দিয়ে। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ছিল ছোট পরিসরে। এরপর ২০০৯ সালে টেলিভিল্ম Bollywood Hero-তেও তিনি কাজ করেন।
তবে ভারতীয় দর্শকের কাছে তাঁর প্রথম বড় পরিচিতি আসে রাজকুমার হিরানি পরিচালিত 3 Idiots ছবির মাধ্যমে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে তিনি জয় লোবো চরিত্রে অভিনয় করেন।
ছবিতে জয় এমন একজন শিক্ষার্থী, যে পড়াশোনার চাপ, প্রত্যাশা এবং নিজের স্বপ্নের মধ্যে আটকে পড়ে। চরিত্রটি ছবির মূল গল্পে খুব দীর্ঘ সময় উপস্থিত না থাকলেও এর প্রভাব ছিল গভীর। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার চাপ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরতে চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলি ফজল এই চরিত্রে আবেগকে অতিরিক্ত নাটকীয় না করে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে জয় লোবোর গল্প দর্শকের কাছে শুধু একটি পার্শ্বঘটনা হয়ে থাকেনি; বরং ছবির অন্যতম স্মরণীয় অংশ হয়ে উঠেছিল।
এই কাজের পর তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। যদিও তখনও তিনি প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন না, তবে বড় একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
Fukrey ছবিতে জাফর চরিত্রের সাফল্য
২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া Fukrey আলি ফজলের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। মৃগদীপ সিং লাম্বা পরিচালিত এই কমেডি ছবিতে তিনি জাফর চরিত্রে অভিনয় করেন।
জাফর একজন সংগীতপ্রেমী তরুণ, যার জীবনে নানা সমস্যা থাকলেও বন্ধুদের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। চরিত্রটির মধ্যে বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, হতাশা এবং হাস্যরসের মিশ্রণ দেখা যায়। আলি ফজল এই ভূমিকায় এমন একটি স্বাভাবিকতা নিয়ে আসেন, যা ছবির অন্যান্য চরিত্রের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যায়।
Fukrey দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার পর জাফর চরিত্রটিও পরিচিতি পায়। আলির অভিনয়ের আরেকটি দিক এখানে সামনে আসে—তিনি শুধু গম্ভীর বা আবেগনির্ভর চরিত্রেই ভালো করেন না, কমেডিতেও নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন।
২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া Fukrey Returns-এ তিনি আবার জাফর চরিত্রে ফিরে আসেন। সিক্যুয়েলটিতেও বন্ধুত্ব ও মজার ঘটনাগুলোর মধ্যে তাঁর চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই দুটি ছবির মাধ্যমে আলি ফজল এমন দর্শকদের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন, যাঁরা তাঁকে আগে 3 Idiots-এ দেখেছিলেন।
বলিউডে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়
Fukrey-এর সাফল্যের পর আলি ফজল বিভিন্ন ধরনের ছবিতে কাজ করার সুযোগ পান। ২০১১ সালের Always Kabhi Kabhi, ২০১৪ সালের Bobby Jasoos এবং ২০১৫ সালের Khamoshiyan তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে।
Bobby Jasoos ছবিতে বিদ্যা বালানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অন্যদিকে Khamoshiyan ছবিতে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, শুধু একটি জনপ্রিয় কমেডি চরিত্রের ওপর নির্ভর করে থাকতে চান না।
তবে তাঁর ক্যারিয়ারের পথ সব সময় একই রকম ছিল না। কোনো ছবি বেশি আলোচনায় এসেছে, কোনো কাজ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। একজন অভিনেতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই ওঠানামা স্বাভাবিক। আলি ফজলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে গেছেন।
হলিউডে আলি ফজলের যাত্রা
আলি ফজলের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া Furious 7 ছবিতে তিনি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। হলিউডের বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেয়।
এরপর ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া Victoria & Abdul তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্টিফেন ফ্রিয়ার্স পরিচালিত এই ছবিতে তিনি আবদুল করিম চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে ব্রিটিশ অভিনেত্রী জুডি ডেঞ্চ রানি ভিক্টোরিয়ার ভূমিকায় ছিলেন।
চলচ্চিত্রটির গল্প ঐতিহাসিক আবদুল করিম ও রানি ভিক্টোরিয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত। আলি ফজলের অভিনীত চরিত্রটি ভারতের একজন ব্যক্তি, যিনি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন।
এই ছবিতে কাজ করার ফলে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে আলি ফজলকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর অভিনয়জীবন যে শুধু হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সেই সম্ভাবনাও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে Death on the Nile এবং Kandahar-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রযোজনায়ও তিনি অভিনয় করেন। Death on the Nile ছবিটি আগাথা ক্রিস্টির জনপ্রিয় রহস্যকাহিনি অবলম্বনে নির্মিত। এখানে আলি অ্যান্ড্রু ক্যাচাডোরিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন।
এই কাজগুলো তাঁর ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্য যোগ করেছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভিন্ন ধরনের নির্মাণশৈলী ও কাজের পরিবেশের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
Mirzapur-এ গুড্ডু পণ্ডিত: ক্যারিয়ারের নতুন মোড়
আলি ফজলের অভিনয়জীবনের কথা উঠলে Mirzapur সিরিজের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হয়। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই অপরাধনির্ভর ওয়েব সিরিজে তিনি গুড্ডু পণ্ডিত চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্র তাঁর জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
গুড্ডু পণ্ডিত এমন একজন ব্যক্তি, যার জীবনের গতিপথ সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। শুরুতে তাঁর মধ্যে শারীরিক শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজের অবস্থান তৈরি করার আকাঙ্ক্ষা বেশি দেখা যায়। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই চরিত্রটির মধ্যে প্রতিশোধ, ক্ষতি, রাগ এবং ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা জটিল হয়ে ওঠে।
আলি ফজলের জন্য এই চরিত্রটি ছিল আগের অনেক কাজের তুলনায় আলাদা। এখানে তাঁকে শুধু সংলাপ বা বাহ্যিক অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করলে চলত না। চরিত্রটির মানসিক পরিবর্তন এবং পরিস্থিতির সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়াও ফুটিয়ে তুলতে হতো।
বিশেষ করে সিরিজের পরবর্তী অংশগুলোতে গুড্ডু পণ্ডিতের পরিবর্তিত ব্যক্তিত্ব দর্শকের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলি ফজল চরিত্রটির শারীরিক ভাষা, কথা বলার ধরন এবং আবেগ প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে এই রূপান্তরকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করেছেন।
Mirzapur তাঁকে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা এনে দেয়। গুড্ডু পণ্ডিত নামে পরিচিতি এতটাই বিস্তৃত হয় যে, অনেক দর্শকের কাছে আলি ফজলের পরিচয়ের সঙ্গে এই চরিত্রটি সরাসরি জড়িয়ে যায়।
তবে এই জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু চরিত্রের গল্প নয়, আলির অভিনয়ের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি যে গম্ভীর ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র সামলাতে পারেন, সিরিজটি তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
অভিনয়ের বাইরে প্রযোজক হিসেবেও আলি ফজল
আলি ফজল শুধু অভিনয়ের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। ২০২১ সালে স্ত্রী রিচা চাড্ডার সঙ্গে তিনি পুশিং বাটনস স্টুডিওস নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
প্রযোজনার জগতে যুক্ত হওয়া একজন অভিনেতার জন্য নতুন ধরনের দায়িত্ব নিয়ে আসে। এখানে শুধু নিজের চরিত্র বা অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দিলেই হয় না; গল্প নির্বাচন, নির্মাণের পরিকল্পনা এবং একটি প্রকল্পকে বাস্তবায়নের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাঁদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে Girls Will Be Girls। শুচি তালাতি পরিচালিত এই ছবিটি ২০২৪ সালের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং সেখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে।
স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ আলি ফজলের পেশাগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। বড় বাণিজ্যিক প্রযোজনায় অভিনয়ের পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের গল্পের নির্মাণে যুক্ত হওয়া তাঁর কাজের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
আলি ফজলের ব্যক্তিগত জীবন
আলি ফজলের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে অভিনেত্রী রিচা চাড্ডার নাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দুজনেই ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২২ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তাঁদের সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দুজনেই অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনার ক্ষেত্রেও আগ্রহী। একসঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সেই আগ্রহ পেশাগত কাজেও প্রকাশ পেয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁরা মেয়ের নাম জানান—জুনেইরা ইদা ফজল।
পরিবারের পাশাপাশি আলি ফজল নিজের অভিনয়জীবনও চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ এবং আন্তর্জাতিক প্রযোজনার মধ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনকে ব্যস্ত করে রেখেছে।
আলি ফজলের সাম্প্রতিক কাজ
আলি ফজলের ক্যারিয়ার এখনও পরিবর্তন ও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। Mirzapur-এর জনপ্রিয়তার পরও তিনি শুধু গুড্ডু পণ্ডিতের পরিচয়ে আটকে থাকেননি। বরং বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া Raakh সিরিজে তিনি অভিনয় করেছেন জয়প্রকাশ যাদব নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। The Indian Express-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কাজের অভিজ্ঞতা, চরিত্র নির্বাচনের ভাবনা এবং Mirzapur-এর বাইরে ভিন্ন ধরনের ভূমিকায় অভিনয়ের আগ্রহ নিয়ে কথা বলেছেন।
Raakh-এর মতো কাজ তাঁর অভিনয়জীবনে আরেকটি দিক তুলে ধরে। এখানে অপরাধজগতের প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিবর্তে তাঁকে এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যায়, যিনি নিজের পেশাগত অবস্থান ও ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করার চেষ্টা করেন।
একজন অভিনেতার জন্য পরিচিত চরিত্রের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের ভূমিকায় অভিনয় করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দর্শককে বারবার নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অভিনয়ক্ষমতাকেও পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়।
আলি ফজলের অভিনয়শৈলী কেন আলাদা?
আলি ফজলের অভিনয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি চরিত্র অনুযায়ী নিজের উপস্থাপনা বদলাতে পারেন। Fukrey-এর জাফর এবং Mirzapur-এর গুড্ডু পণ্ডিতের মধ্যে যেমন স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তেমনি Victoria & Abdul-এর আবদুল করিম চরিত্রটিও তাঁদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
কমেডিতে তিনি সংলাপের স্বাভাবিকতা ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা দেখান। আবার গম্ভীর চরিত্রে আবেগ, নীরবতা এবং শারীরিক ভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তনগুলো তাঁর অভিনয়ের পরিসরকে বিস্তৃত করেছে।
তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের চলচ্চিত্রেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের গল্প ও নির্মাণশৈলীর সঙ্গে পরিচিত করেছে।
অবশ্য একজন অভিনেতার ক্যারিয়ারকে শুধু জনপ্রিয় কয়েকটি চরিত্র দিয়ে বিচার করা যায় না। ধারাবাহিকভাবে কাজ করা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়কে পরিণত করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আলি ফজলের দীর্ঘ যাত্রায় এই দিকগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
শেষ কথা
আলি ফজলের গল্পটি এমন একজন অভিনেতার গল্প, যিনি ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। 3 Idiots-এর জয় লোবো থেকে Fukrey-এর জাফর, Victoria & Abdul-এর আবদুল করিম এবং Mirzapur-এর গুড্ডু পণ্ডিত—প্রতিটি চরিত্র তাঁর ক্যারিয়ারে আলাদা অভিজ্ঞতা যোগ করেছে।
তিনি শুধু জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটে না গিয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্পে কাজ করার সুযোগ গ্রহণ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার ক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছেন এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।
আগামী দিনে তাঁর ক্যারিয়ার কোন দিকে এগোবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কাজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, আলি ফজল এমন একজন অভিনেতা, যিনি নিজের পরিচয়কে একটি চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা এবং ভিন্ন ধরনের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন।

