From Belsand to the Spotlight: Pankaj Tripathi’s Unhurried Rise

Portrait of Indian actor Pankaj Tripathi
Pankaj Tripathi portraying Kaleen Bhaiya in Mirzapur
পঙ্কজ ত্রিপাঠী: ছোট চরিত্র থেকে দর্শকের হৃদয়ে, এক অভিনেতার দীর্ঘ পথচলা

ভারতীয় চলচ্চিত্রে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের পর্দায় দেখলেই আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাঁদের অভিনয়ের ধরন, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা সামান্য অভিব্যক্তিই দর্শকের মনে ছাপ ফেলে। পঙ্কজ ত্রিপাঠী সেই ধরনের একজন অভিনেতা। হিন্দি চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে তিনি এমন একটি অবস্থান তৈরি করেছেন, যেখানে বড় তারকাসুলভ উপস্থিতির চেয়ে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাই বেশি গুরুত্ব পায়।

তবে আজকের এই পরিচিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। বিহারের একটি সাধারণ গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে এসে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা করে নিতে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি কাজের প্রতি মনোযোগ হারাননি। পরবর্তী সময়ে Gangs of Wasseypur, Masaan, Newton এবং Mirzapur-এর মতো কাজের মাধ্যমে পঙ্কজ ত্রিপাঠী প্রমাণ করেছেন, একজন অভিনেতার প্রকৃত শক্তি শুধু তাঁর চরিত্রের আকারে নয়, বরং সেটিকে কতটা জীবন্ত করে তুলতে পারেন, তার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর জন্ম ও শৈশব

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর জন্ম ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, ভারতের বিহার রাজ্যের গোপালগঞ্জ জেলার বেলসান্দ গ্রামে। তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে। তাঁর বাবা বেনারস তিওয়ারি কৃষিকাজের পাশাপাশি পুরোহিতের কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই পঙ্কজ এমন একটি পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে জীবনের বাস্তবতা ছিল খুব কাছের।

অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহের শুরুটাও ছিল বেশ স্বাভাবিক। গ্রামের বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে নাটকে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। তখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা স্পষ্ট ছিল, তা বলা কঠিন। কিন্তু মঞ্চে অভিনয় করার সেই প্রাথমিক অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাটনায় যান। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর হয়। অভিনয়কে কেবল শখ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তিনি বুঝতে শুরু করেন, এই শিল্পের মধ্যে শেখার ও নিজেকে প্রকাশ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

থিয়েটার থেকে অভিনয়ের জগতে

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয়জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে থিয়েটারের মঞ্চে। পাটনায় থাকার সময় তিনি নিয়মিত নাটক দেখতেন এবং অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। মঞ্চের অভিজ্ঞতা তাঁকে চরিত্র বোঝা, সংলাপের যথাযথ ব্যবহার এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিনয় করার মতো বিষয়গুলো শিখতে সাহায্য করে।

তবে শুধু আগ্রহ থাকলেই যে অভিনয়ের জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না, সেটিও তিনি বুঝেছিলেন। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অনুভব করেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (NSD) ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। একাধিকবার চেষ্টা করার পর ২০০১ সালে তিনি সেখানে ভর্তির সুযোগ পান এবং অভিনয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় পড়াশোনা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে অর্জিত জ্ঞান ও মঞ্চের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে ক্যামেরার সামনে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁকে সাহায্য করে।

২০০৪ সালে প্রশিক্ষণ শেষ করে পঙ্কজ মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। তাঁর সামনে তখন নতুন এক বাস্তবতা। একদিকে অভিনয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তা। চলচ্চিত্রের জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে, ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে এবং প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হয়েছে।

চলচ্চিত্রে শুরুর দিনগুলো

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর চলচ্চিত্রজীবনের শুরুর দিকটা ছিল বেশ সংগ্রামময়। Run, Apaharan এবং Omkara-এর মতো ছবিতে তিনি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে Raavan, Chillar Party ও Agneepath-এর মতো চলচ্চিত্রেও তাঁকে দেখা যায়।

এসব ছবিতে তিনি সব সময় প্রধান চরিত্রে ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রে তাঁর পর্দায় উপস্থিতির সময়ও ছিল সীমিত। কিন্তু ছোট চরিত্র হলেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের ছাপ রাখার চেষ্টা করতেন তিনি।

চলচ্চিত্রের জগতে অনেক সময় একজন অভিনেতার দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পঙ্কজের ক্যারিয়ারও তার একটি উদাহরণ। শুরুতে তাঁকে নিয়মিত বড় চরিত্রে দেখা না গেলেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন। প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন এবং নিজের অভিনয়কে আরও পরিণত করেছেন।

এই সময়ের কাজগুলো তাঁর পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। কারণ, পর্দায় খুব অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হয়েও কীভাবে একটি চরিত্রকে মনে রাখার মতো করে তোলা যায়, সেই দক্ষতা তিনি ধীরে ধীরে অর্জন করেন।

Gangs of Wasseypur যে ছবির পর বদলে যায় পরিচিতি

২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া Gangs of Wasseypur পঙ্কজ ত্রিপাঠীর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত এই অপরাধনির্ভর চলচ্চিত্রে তিনি সুলতান কুরেশি চরিত্রে অভিনয় করেন।

ছবিটিতে একাধিক শক্তিশালী চরিত্র থাকলেও পঙ্কজ তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং চরিত্রের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে দর্শকের নজর কাড়েন। তাঁর অভিনয়ে অতিরিক্ত নাটকীয়তার পরিবর্তে চরিত্রের নিজস্ব আচরণ ও মানসিকতার প্রকাশ দেখা যায়।

এই ছবির পর তাঁকে নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তিনি এমন একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান, যাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে নেওয়া হলে গল্পের গভীরতা বাড়তে পারে।

তবে Gangs of Wasseypur-এর সাফল্যকে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। এর আগেও তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় করে যাচ্ছিলেন। ছবিটি মূলত সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ার পথকে আরও প্রশস্ত করে দেয়।

পার্শ্বচরিত্রেও নিজের আলাদা পরিচয়

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সাধারণ চরিত্রের মধ্যেও আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো সব সময় নায়কসুলভ হয় না। কখনো তিনি অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, কখনো একজন সাধারণ মানুষ, আবার কখনো এমন একজন চরিত্রে অভিনয় করেন, যার আচরণের মধ্যে হাস্যরস ও গম্ভীরতা পাশাপাশি থাকে।

২০১৫ সালের Masaan ছবিতে তাঁর অভিনয় এই বৈচিত্র্যের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একইভাবে Nil Battey Sannata, Bareilly Ki Barfi এবং Fukrey-এর মতো চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের অভিনয়ক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

২০১৭ সালের Newton ছবিতে সহকারী কমান্ড্যান্ট আত্মা সিং চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পান। চরিত্রটির মধ্যে কর্তৃত্ব, বাস্তববোধ এবং ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির যে মিশ্রণ ছিল, তা তিনি সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন।

এই ধরনের চরিত্রে পঙ্কজের সাফল্যের একটি কারণ হলো তাঁর সংলাপ বলার স্বাভাবিক ভঙ্গি। তিনি সংলাপকে শুধু মুখস্থ করা শব্দ হিসেবে উপস্থাপন করেন না; বরং চরিত্রের পরিস্থিতি ও মানসিকতার সঙ্গে মিলিয়ে বলার চেষ্টা করেন। ফলে অনেক সময় তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে সাজানো মনে হয় না।

Mirzapur ও কালীন ভাইয়ার জনপ্রিয়তা

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও পঙ্কজ ত্রিপাঠী নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রগুলোর একটি হলো Mirzapur সিরিজের আখণ্ডানন্দ ত্রিপাঠী, যিনি দর্শকের কাছে কালীন ভাইয়া নামেই বেশি পরিচিত।

এই চরিত্রে তিনি অপরাধজগতের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ, কঠোরতা এবং নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রবণতা। চরিত্রটি শুধু একজন অপরাধীর গল্প নয়; বরং ক্ষমতা ও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতাও এর সঙ্গে জড়িত।

কালীন ভাইয়া চরিত্রে পঙ্কজের অভিনয়ের বিশেষত্ব হলো তাঁর সংযত উপস্থাপনা। অনেক দৃশ্যে তাঁকে উচ্চস্বরে কথা বলতে হয় না। বরং শান্ত কণ্ঠ, চোখের দৃষ্টি এবং কথার মধ্যে থাকা বিরতি দিয়েই তিনি চরিত্রটির প্রভাব তৈরি করেন।

Mirzapur জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালীন ভাইয়া চরিত্রটিও দর্শকের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পায়। পঙ্কজ ত্রিপাঠীর নামের সঙ্গে এই চরিত্রটি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় এটি আলাদা গুরুত্ব পায়।

তবে কালীন ভাইয়াই তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র পরিচয় নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, একজন অভিনেতাকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ভূমিকায় আটকে থাকতে হয় না।

প্রধান চরিত্রেও পঙ্কজ ত্রিপাঠী

দীর্ঘ সময় ধরে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের পর পঙ্কজ ত্রিপাঠী প্রধান চরিত্রেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১৭ সালের Gurgaon ছবিতে তাঁকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে Kaagaz ছবিতেও তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

Kaagaz ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি এমন একজন সাধারণ মানুষের গল্পের সঙ্গে যুক্ত, যিনি সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার লড়াইয়ে নামেন। বাস্তব জীবনের একটি অস্বাভাবিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গল্পে পঙ্কজ তাঁর পরিচিত সংযত অভিনয়শৈলী ব্যবহার করেছেন।

এ ধরনের ছবিতে অভিনয় করার জন্য শুধু সংলাপ বলার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। চরিত্রটির হতাশা, অসহায়ত্ব এবং লড়াইয়ের মানসিকতা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়। পঙ্কজের অভিনয়ের অন্যতম শক্তি হলো, তিনি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত অনুভূতিগুলোকে সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।

Stree, Ludo, Gunjan Saxena: The Kargil Girl এবং 83-এর মতো চলচ্চিত্রেও তাঁর উপস্থিতি হিন্দি সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্র নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয়ের বিশেষত্ব কোথায়?

পঙ্কজ ত্রিপাঠীকে অন্য অনেক অভিনেতার থেকে আলাদা করে তাঁর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা। তিনি চরিত্রকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সব সময় অতিরঞ্জিত অভিব্যক্তি বা নাটকীয় সংলাপের ওপর নির্ভর করেন না। বরং চরিত্রটি কীভাবে কথা বলে, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং অন্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করে, সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন।

তাঁর অভিনয়ে বিহারের আঞ্চলিক ভাষা ও কথাবলার ভঙ্গির প্রভাবও অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়। তবে এই বৈশিষ্ট্য কেবল ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চরিত্রের সামাজিক অবস্থান, চিন্তাভাবনা এবং দৈনন্দিন আচরণ প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর পর্যবেক্ষণ কাজে আসে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি নেতিবাচক চরিত্রেও অভিনয় করলে সেটিকে একমাত্রিক করে তোলেন না। কালীন ভাইয়া বা সুলতান কুরেশির মতো চরিত্রের ক্ষেত্রে দর্শক তাঁদের কাজের সঙ্গে একমত না হলেও চরিত্রগুলোর আচরণ ও মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পায়।

অন্যদিকে, সাধারণ ও হাস্যরসাত্মক চরিত্রে তিনি সহজেই অভিনয়ের ধরন বদলে নিতে পারেন। এই বৈচিত্র্যই তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে প্রাসঙ্গিক রেখেছে।

ব্যক্তিগত জীবন

পঙ্কজ ত্রিপাঠী ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত সংযত থাকেন। তাঁর স্ত্রী মৃদুলা ত্রিপাঠী। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে যাওয়ার আগে থেকেই তাঁদের পরিচয় ছিল এবং ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে।

পেশাগত জীবনে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও পঙ্কজের পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর সাধারণ জীবনযাপনের বিষয়টি প্রায়ই আলোচনায় আসে। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনয় শেখার প্রক্রিয়া, থিয়েটারের অভিজ্ঞতা এবং নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বলেছেন।

তাঁর জীবন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সাফল্য পাওয়ার পরও একজন অভিনেতার শেখার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। প্রতিটি নতুন চরিত্রের জন্য নতুনভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা অভিনয়কে আরও পরিণত করতে সাহায্য করে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

পঙ্কজ ত্রিপাঠী তাঁর অভিনয়ের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। Newton ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০১৭ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পান। পরবর্তী সময়ে Mimi ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০২১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মানও অর্জন করেন।

এই স্বীকৃতিগুলো তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু পুরস্কারের ওপর নির্ভরশীল নয়। দর্শকের কাছে তাঁর চরিত্রগুলোর গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ধরনের গল্পে অভিনয় করার সক্ষমতাও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের বড় অংশ।

শেষ কথা

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর ক্যারিয়ার এমন একটি যাত্রার গল্প, যেখানে সাফল্যের আগে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অপেক্ষা এবং ছোট ছোট সুযোগকে কাজে লাগানোর অভিজ্ঞতা। তিনি প্রথম থেকেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাননি। বরং বছরের পর বছর বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করে নিজের দক্ষতা ও পরিচিতি তৈরি করেছেন।

আজ তাঁর অভিনীত কালীন ভাইয়ার মতো চরিত্র দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে Newton, Masaan ও Kaagaz-এর মতো কাজ তাঁর অভিনয়ের ভিন্ন ভিন্ন দিক সামনে এনেছে।

তাঁর ক্যারিয়ার থেকে বোঝা যায়, চলচ্চিত্রে সফল হওয়ার জন্য শুধু পর্দায় বেশি সময় পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্রকে বোঝা, অভিনয়ে সততা বজায় রাখা এবং কাজের প্রতি ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াও সমান জরুরি। পঙ্কজ ত্রিপাঠী নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলোই বারবার তুলে ধরেছেন।